রাজধানী ঢাকার প্রায় ২ হাজার ৮শ একর খাস জমি উদ্ধারের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। আদালত বলেছে, সরকারের নামে থাকা এই বিপুল পরিমাণ জমি উদ্ধার করা ভূমি মন্ত্রণালয়ের সাংবিধানিক দায়িত্ব। নতুন জরিপের মাধ্যমে সরকার এই জমি উদ্ধার করতে পারে। বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুর ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর স্বাক্ষরিত পূর্ণাঙ্গ এই রায় গতকাল সোমবার প্রকাশিত হয়েছে।
আদালতে ভূমি মন্ত্রণালয়ের পক্ষে মামলা পরিচালনাকারী আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, জরিপের সময় কিছু অসাধু কর্মকর্তা ঢাকার বিভিন্ন খাল ও নদীর প্রায় তিন হাজার একর খাস জমি খতিয়ান ভুক্ত সম্পত্তি হলেও ব্যক্তি মালিকানায় রেকর্ড করে দেয়। যার মাধ্যমে সরকারের হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পত্তি বেহাত হয়। পূর্ণাঙ্গ এ রায় প্রকাশের পর নতুন জরিপের মাধ্যমে উক্ত জমি সরকারের নামে রেকর্ডভুক্ত করতে আর কোনো বাধা থাকছে না।
জানা যায়, ১৯৯৫ সালে ঢাকা সিটিতে ভূমি জরিপ করা হয়। সে সময় জেলা প্রশাসকের এক নম্বর খতিয়ানভুক্ত প্রায় ২ হাজার ৮শ একর খাস জমি বিভিন্ন ব্যক্তির নামে রেকর্ডভুক্ত করে জরিপ কাজে নিয়োজিত সেটেলমেন্ট কর্মকর্তারা। এসব জমির বেশিরভাগই খাল ও নদী। এ নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে ২০১১ সালে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। পাশাপাশি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনকে চিঠি দেয় মন্ত্রণালয়। ওই চিঠি চ্যালেঞ্জ করে এসিস্টেন্ট সেটেলমেন্ট অফিসার এসোসিয়েশনের পক্ষে সংগঠনের সভাপতি মো: জাহাঙ্গীর আলম হাইকোর্টে রিট করেন। ওই রিটের প্রেক্ষিতে চিঠির কার্যক্রম স্থগিতের পাশাপাশি রুল জারি করে। ওই রুলের চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে গত ৪ ডিসেম্বর হাইকোর্ট উপরোক্ত রায় দেয়।
রায়ে বলা হয়, সরকারের নামে থাকা প্রায় ২ হাজার ৮শ একর জমি উদ্ধার করার জন্য ভূমি মন্ত্রণালয়ের সাংবিধানিক দায়িত্ব আছে। সরকারের অবশ্যই উক্ত জমি উদ্ধারে প্রেস সার্ভে (নতুন জরিপ) করার আইনগত অধিকার রয়েছে।