বাজারে বিক্রি হয় এমন পাঁচটি ব্র্যান্ডের পানি পানের অনুপযোগী ও মানহীন। অনুমোদিত ১৫টি ব্র্যান্ডের বোতল ও জারের পানি পরীক্ষা করে এ তথ্য পেয়েছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস এন্ড টেস্টিং ইন্সটিটিউশন (বিএসটিআই)।
পানের অনুপযোগী ওই ৫ ব্র্যান্ডের পানি হলো ফ্রুটস অ্যান্ড ফ্লেভার লিমিটেডের ‘ইয়ামি ইয়ামি’, ক্রিস্টাল ফুড অ্যান্ড বেভারেজের ‘সিএফবি’, কুন্ডেশ্বরী ঔষধালয় লিমিটেডের ‘সিনমিন’, সিনহা বাংলাদেশ ট্রেডস লিমিটেডের ‘এক্যুয়া মিনারেল’ এবং ওরোটেক ট্রেড অ্যান্ড টেকনোলজির ‘ওসমা’।
গতকাল সোমবার বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন বিএসটিআইয়ের পক্ষ থেকে দাখিল করা হয়। প্রতিবেদনটি তুলে ধরেন রাষ্ট্রপক্ষের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোখলেসুর রহমান। রিটকারী পক্ষে ছিলেন আইনজীবী জেআর খান রবিন। প্রতিবেদন তুলে ধরার পর মানহীন ওই ৫ ব্র্যান্ডের পানির বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তা ২৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে আদালতকে অবহিত করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি অনুমোদিত অন্যান্য ব্র্যান্ডের পানি পরীক্ষা করে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনও দাখিল করতে বিএসটিআইকে বলা হয়েছে। এছাড়া প্রতি দুই সপ্তাহে অন্তত একবার বাজার থেকে পানির নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা অব্যাহত রাখতে সংস্থাটিকে বলা হয়।
গত বছরের ২২ মে একটি জাতীয় দৈনিকে ‘প্রতারণার নাম বোতলজাত পানি’ শিরোনামের একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে হাইকোর্টে রিট করেন আইনজীবী শাম্মী আক্তার। ওই রিটের প্রেক্ষিতে চলতি মাসে হাইকোর্ট বাজারে অনুমোদিত ব্র্যান্ডের পানি পরীক্ষা করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়। ওই নির্দেশ মোতাবেক ২২টি ব্র্যান্ডের জার ও বোতলের পানি সংগ্রহ করে বিএসটিআইয়ের কেমিক্যাল টেস্টিং উইং-এ পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষা শেষে ওই প্রতিবেদন গতকাল হাইকোর্টে দাখিল করে সংস্থাটি। প্রতিবেদনে দশটি ব্র্যান্ডের পানি মানসম্মত বলে উল্লেখ করা হয়। এগুলো হচ্ছে: মাম, প্রাণ, কিনলে, ওয়েসিস, ক্রিস্টাল, দিশা, সাফা, বিস্টল ফ্রেশ, মুক্তা ও অ্যাকুয়াফিনা। এছাড়া আরো ৭টি ব্র্যান্ডের পানির পরীক্ষা চলছে বলে জানা গেছে।