৩৮০ কোটি মানুষের সমান সম্পদ শীর্ষ ২৬ ধনীর হাতে

বিশ্বের ২৬ শীর্ষ ধনীর হাতে যে সম্পদ রয়েছে তার পরিমাণ দরিদ্র ৩৮০ কোটি মানুষের সম্পদের সমান। অক্সফাম প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সারা বিশ্বেই ধনী-দরিদ্র ব্যবধান বাড়ছে। গতকাল প্রকাশিত ‘পাবলিক গুডস অর পাবলিক ওয়েলথ?’ শীর্ষক এই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গেলো বছর বিশ্বের দরিদ্র অর্ধেক মানুষের আয় ১১ শতাংশ কমে গেছে, অন্যদিকে বিলিয়নিয়ারদের আয় ১২ শতাংশ হারে বেড়েছে। গেলো বছরের হিসাবে বিশ্বের শীর্ষ ২৬ জনের সম্পদের পরিমাণ ১ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে যা বিশ্বের ৩৮০ কোটি মানুষের সম্পদের সমান। অবশ্য তার আগের বছর এই সম্পদের মালিক ছিল ৪৩ জন শীর্ষ ধনী। অক্সফাম বিশ্বব্যাপী ধনী ও দরিদ্রের এই বৈষম্য দূর করতে সরকারের পাশাপাশি ধনকুবেরদেরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ধনীদের সম্পদ যে স্থির অবস্থায় আছে-এমন নয়। তাদের সম্পদ গত বছর প্রতিদিন ২৫০ কোটি ডলার করে বেড়েছে। উদাহরণ হিসেবে ফোর্বসের তালিকায় থাকা বিশ্বের শীর্ষ ধনী অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোসের প্রসঙ্গ টানা হয়েছে। জেফ বেজোসের সম্পদ গত বছর ১১ হাজার ২০০ কোটি ডলার বেড়েছে। তার সম্পদের মাত্র ১ শতাংশ ১০ কোটি ৫০ লাখ জনসংখ্যার দেশ ইথিওপিয়ার পুরো স্বাস্থ্য বাজেটের সমান।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ধনীদের আয় বাড়লেও দরিদ্রের সম্পদ কমেছে। ৩৮০ কোটি মানুষের সম্পদ গত বছর ১১ শতাংশ কমেছে। ধনী ও দরিদ্রের সম্পদের এই বৈষম্য অর্থনৈতিক ক্ষতির পাশাপাশি জন-অসন্তোষকেও উসকে দিচ্ছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। সুইজারল্যান্ডের দাভোসে আসন্ন ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) সম্মেলনকে সামনে রেখে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করল সংস্থাটি। প্রতিবছর জানুয়ারিতে বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীরা দাভোসের এ সম্মেলনে অংশ নেন।