ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় সহায়তা দিতে আগ্রহী কোরিয়া

বাংলাদেশে কোরিয়ার বিনিয়োগ আহ্বান করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ বিনিয়োগের জন্য উত্তম জায়গা। এদেশে বিনিয়োগ করে লোকসান করতে হলে পরিকল্পনার প্রয়োজন হবে। আর লাভ করতে চাইলে পরিকল্পনার প্রয়োজন নেই, বিনিয়োগ করলেই হবে। তাই এখনই বিনিয়োগের উত্তম সময়।

গতকাল সোমবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের অর্থমন্ত্রীর সম্মেলন কক্ষে সফররত কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (কোইকা) প্রেসিডেন্ট লি মি-কিউং এর সাথে সাক্ষাত শেষে অর্থমন্ত্রী এ কথা বলেন। সভায় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, অর্থনৈতিক অঞ্চলের ভবিষ্যত্ অত্যন্ত উজ্জ্বল। বাংলাদেশ দিনে দিনে শুধু সামনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

সফররত কোইকার প্রেসিডেন্ট বলেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগের পরিবেশ ভাল। আমি দেশে ফিরে বাংলাদেশকে তুলে ধরবো, যাতে বিনিয়োগকারীরা এদেশে আসেন। ঢাকার যানজট ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন ও বাংলাদেশে বিনিয়োগে ব্যাপক আগ্রহ দেখিয়েছেন তিনি। এ সম্পর্কে তিনি বলেন, এক সময় তাদের দেশেরও এই অবস্থা ছিল। এটা সমাধানযোগ্য সমস্যা। তাই তিনি দেশে ফিরে কোরিয়ার যারা এই সমস্যা নিয়ে কাজ করেন তাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে বাংলাদেশ সরকারকে সহায়তা দেবেন।

লি মি-কিউং জানান, কোইকা ১৯৯৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশের ২৪টি প্রকল্পে ৫ কোটি ৭০লাখ ডলার ঋণ দিয়েছে। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়া সম্পর্কে     তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে মানবতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। সাময়িক সমস্যা হলেও আশা করছি এই সমস্যার সমাধান হবে।

এসময় অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, কোরিয়া স্বাস্থ্য, পরিবেশ, আইসিটি, মানবসম্পদ উন্নয়ন ইত্যাদি খাতে সহায়তা দিয়ে আসছে। ঢাকায় আন্ডাগ্রাউন্ড সাবওয়ে তৈরি হচ্ছে। এটি হলে যানজট কমবে। তাছাড়া ঢাকা শহরকে সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। ঢাকা-চট্টগ্রামের যাতায়াতের সময় কমাতে দ্রুতগতির ট্রেন চালু করা হবে। যাতে ১ ঘন্টা ৫ মিনিটে যাতায়াত করা যাবে। এছাড়া গ্রামগুলোকে শহরে রূপান্তরিত করা হচ্ছে, যাতে গ্রামের মানুষকে আর শহরে আসতে না হয়। মন্ত্রী বলেন, দেশের সমুদ্র সৈকতকে দুই ভাগে ভাগ করা হবে। এক দিকে থাকবে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের জন্য আর অন্যদিকে থাকবে দেশীয় পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত।