ঢাকার বাইরে হাসপাতালগুলোতে ৬২ শতাংশ চিকিত্সক অনুপস্থিত থাকে বলে প্রমাণ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল সোমবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২ টা পর্যন্ত একযোগে দেশের আট জেলার সরকারি ১১ হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কেন্দ গুলোতে অভিযান চালিয়ে হাতেনাতে এ প্রমাণ পেয়েছে দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিম। সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে চিকিত্সকের অনুপস্থিতির কারণে চিকিত্সাসেবা নিতে আসা রোগীরা হয়রানির শিকার ও স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হওয়ার এক অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুদক মহাপরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মাদ মুনীর চৌধুরীর নির্দেশে এসব অভিযান চালানো হয়।
অভিযানের ব্যাপারে দুদকের মহাপরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মাদ মুনীর চৌধুরী বলেন, স্বাস্থ্য খাতে এ অবক্ষয় অত্যন্ত দুঃখজনক। মানবসেবার চেতনা না থাকলে চিকিত্সা সেবা পরিত্যাগ করা উচিত। তবে দায়িত্বে অবহেলার বিষয়ে দুদক কঠোর অবস্থান নেবে। তিনি আরো বলেন, সোমবারের অভিযানে দুদক কর্মকর্তারা হাসপাতালে যেসব চিকিত্সকদের অনুপস্থিতি পেয়েছেন তাদের তালিকা করা হয়েছে। অনুপস্থিত ওই সকল চিকিত্সকদের চিঠি দেবে দুদক। আপাতত কাউকে গ্রেফতার করা না হলেও পরে একই অবস্থা পাওয়া গেলে গ্রেফতার করা হবে। এ ক্ষেত্রে চাকরিও চলে যেতে পারে। তিনি হুঁশিয়ার করে বলেন, স্বাস্থ্য খাত দুদকের নজরদারিতে রয়েছে। দায়িত্বে অবহেলায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দুদক সূত্র জানায়, গতকাল ঢাকা, রংপুর, রাজশাহী, দিনাজপুর, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, কুষ্টিয়া ও পাবনায় এসব অভিযান চালানো হয়। অভিযানের আওতাভুক্ত ১১টি হাসপাতালের মধ্যে রাজধানী ঢাকার তিনটি এবং বাইরের ৮টি। ঢাকার তিন হাসপাতাল হলো মুগদা জেনারেল হাসপাতাল, ফুলবাড়িয়ার কর্মচারী কল্যাণ হাসপাতাল ও নাজিরা বাজারের মা ও শিশু সদন। আর ঢাকার বাইরের ৮টি হাসপাতাল হলো রংপুরের পীরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, দিনাজপুর সদর হাসপাতাল, টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পাবনা সদর হাসপাতাল ও আটঘরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।
দুদক টিম সরেজমিনে পরিদর্শনে দেখতে পেয়েছে আট জেলার ১১ হাসপাতালের মধ্যে ঢাকার বাইরের ৮ হাসপাতালে রোস্টার ডিউটি বন্টনকৃত চিকিত্সকের সংখ্যা ১৩১ জন থাকলেও অনুপস্থিত ছিলেন ৮১ জন। এক্ষেত্রে অনুপস্থিতির হার মোট চিকিত্সকের প্রায় ৬১ পয়েন্ট ৮ শতাংশ। তবে ঢাকার হাসপাতালগুলোতে চিকিত্সকের উপস্থিতির হার বেশি ছিল। ঢাকার তিনটি হাসপাতালসহ মোট ১১ হাসপাতালের রোস্টার ডিউটি বন্টনকৃত চিকিত্সকের সংখ্যা ২৩০ জন থাকলেও কর্মক্ষেত্রে অনুপস্থিত পাওয়া যায় ৯২ জন চিকিত্সককে, যা মোট চিকিত্সকের ৪০ শতাংশ।
এই ১১ টি হাসপাতালের মধ্যে ঢাকার মুগদা জেনারেল হাসপাতালে শতভাগ চিকিত্সক উপস্থিতি পেয়েছে দুদক টিম। তবে সেখানে দুদকের অভিযানকালে জরুরি বিভাগের এক কর্মচারী (স্ট্রেচার বিয়ারার) দায়িত্বরত অবস্থায় রোগীর স্বজনদের নিকট হতে অনৈতিক অর্থ আদায়কালে হাতেনাতে ধরা পড়েন। দুদকের সুপারিশক্রমে ঘুষ নেওয়ার মাধ্যমে সরকারি কর্মচারী শৃঙ্খলা আপিল বিধি ২০১৮ মোতাবেক হাসপাতালের পরিচালক আমিন আহমেদ খান তাকে তাত্ক্ষণিকভাবে বরখাস্ত করেন।