ট্রলার ও ১৮ শ্রমিকের সন্ধান মেলেনি

টানা ছয় দিন ধরে অভিযানের পরেও উদ্ধার হয়নি মেঘনা নদীতে ডুবে যাওয়া ট্রলারটি। একইসঙ্গে সন্ধান মেলেনি নিখোঁজ ১৮ শ্রমিকের। এ অবস্থায় গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক সায়লা ফারজানা জানান, টানা ছয় দিনের উদ্ধার অভিযানে ট্রলারটির সন্ধান পাওয়া যায়নি। তাই সার্বিক বিবেচনায় উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। তবে আবার কোনো ক্লু পাওয়া গেলে শুরু করা হবে অভিযান।

বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান কমডোর মো. মোজাম্মেল হক জানান, সোমবার সারা দিনও মেঘনায় তল্লাশি চালানো হয়; কিন্তু ট্রলারটি শনাক্ত করা যায়নি। উদ্ধার অভিযান ব্যর্থ হলো কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেছেন, বেঁচে যাওয়া শ্রমিকরাও সঠিকভাবে স্থানটি দেখাতে পারছে না। তাছাড়া মেঘনা থেকে বালু উত্তোলনের কারণে নদীর তলদেশে বিশাল বিশাল গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। আর মাটির নৌকা ডুবে যাওয়ার পর তলদেশ থেকে চিহ্নিত করা কঠিন। মঙ্গলবার সকালে উদ্ধারকারী জাহাজ ‘প্রত্যয়’ নারায়ণগঞ্জে ফিরে যাবে। উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া অন্যরা ফিরে যাচ্ছেন। তিনি আরো বলেন, বিআইডব্লিউটিএ ছাড়াও স্ক্যান সোনারে নৌ বাহিনীও অনুসন্ধান চালিয়েছে। কোনোভাবেই ট্রলারটি শনাক্ত করা যায়নি। তিনি বলেন, হাইড্রোগ্রাফিক রিপোর্টসহ এই দুর্ঘটনার উদ্ধার অভিযান ও অনুসন্ধানের বিষয়ে রিপোর্ট পেশ করা হবে। সেখানেই পুরো বিষয় তুলে ধরা হবে।

এদিকে গতকাল বিকালে মুন্সীগঞ্জ আমলি আদালত-৫ ট্রলার মালিক জাকির দেওয়ানের একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। ট্রলারডুবির ঘটনায় দায়ের করা মামলার দ্বিতীয় আসামি তিনি। প্রধান আসামি ট্রলারটির চালক এখনও পলাতক। যে ট্যাংকারটির সঙ্গে ট্রলারটির ধাক্কা লাগে সেই ট্যাংকারও শনাক্ত করা যায়নি।

উল্লেখ্য, গত সোমবার দিবাগত রাত পৌনে ৪টার দিকে মুন্সীগঞ্জের মেঘনা নদীতে তেলের ট্যাংকার ধাক্কায় ট্রলারটি মেঘনায় ডুবে যায়। এসময় ট্রলারটিতে ৩৪ জন শ্রমিক ছিল। ১৪ জন সাঁতার কেটে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও নিখোঁজ হয় ২০ শ্রমিক।

উদ্ধার হয় মাত্র দুইজনের লাশ

ডুবে যাওয়া ট্রলারের মাত্র দুইজন শ্রমিকের লাশ উদ্ধার হয়েছে। তারা হলেন- রহমত আলী (৩৯) ও রফিকুল ইসলাম (৩৭)। ট্রলার ডুবির ঘটনায় নিখোঁজ রয়েছে ১৮ জন।

রহমত আলী সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার গজাইল গ্রামের মৃত মইজউদ্দিনের ছেলে। রফিকুল পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার খানমরিচ ইউনিয়নের মুন্ডুমালা গ্রামের লয়ান ফকিরের ছেলে।

যে ১৮ শ্রমিক নিখোঁজ

নিখোঁজ ১৮ জনের মধ্যে পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার খানমরিচ ইউনিয়নের মুন্ডুমালা গ্রামের গোলাই প্রামাণিকের ছেলে সোলেমান হোসেন, জব্বার ফকিরের ছেলে আলিফ হোসেন ও মোস্তফা ফকির, গোলবার হোসেনের ছেলে নাজমুল হোসেন-১, আব্দুল মজিদের ছেলে জাহিদ হোসেন, নূর ইসলামের ছেলে মানিক হোসেন, ছায়দার আলীর ছেলে তুহিন হোসেন, আলতাব হোসেনের ছেলে নাজমুল হোসেন-২, দাসমরিচ গ্রামের মোশারফ হোসেনের ছেলে ওমর আলী ও মান্নাফ আলী, তোজিম মোল্লার ছেলে মোশারফ হোসেন, আয়ান প্রামাণিকের ছেলে ইসমাইল হোসেন, সমাজ আলীর ছেলে রুহুল আমিন, মাদারবাড়িয়া গ্রামের আজগর আলীর ছেলে আজাদ হোসেন, চণ্ডিপুর গ্রামের আমির খান ও আব্দুল লতিফের ছেলে হাচেন আলী, রজব আলীর ছেলে শফিকুল এবং সিরাজ মিস্ত্রি।