দিগন্ত জুড়ে সরিষা খেত। পাশেই রয়েছে সারি সারি মৌমাছির বাক্স। ফুলের মধু সংগ্রহ করে মৌমাছিরা ফিরছে বাক্সে। বাক্স থেকে সংগ্রহ করা হচ্ছে মধু। এটা মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার মাইালাঘী এলাকার দৃশ্য। ঘিওরসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় সরিষা আবাদ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে মৌসুমি মৌচাষিদের তত্পরতা। কর্মপ্রচেষ্টা, ধৈর্য ও সততার সঙ্গে মৌ চাষ করে স্বাবলম্বীও হয়েছেন অনেকে। তেমনি এক সফল মৌচাষি সাইফুল ইসলাম।
সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুর গ্রামের সুরাত আলী মোড়লের ছেলে সাইফুল ইসলামের ইচ্ছে ছিল পড়াশোনা শেষ করে ভালো চাকরি করে সংসারের আর্থিক সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনবেন। পড়াশোনার ইচ্ছা পূরণ না হলেও ত্যাগ আর নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে অল্প দিনেই সংসারের হাল ধরতে পেরেছেন সাইফুল। তার এই সফলতায় এলাকার অনেক শিক্ষিত যুবক তাকে অনুসরণ করছেন।
ঘিওর উপজেলার মাইলাগী গ্রাম ছাড়াও বিভিন্ন জেলায় তার মৌ চাষের খামার রয়েছে। সাইফুলের এ সফলতা নিয়ে সম্প্রতি কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি জানান, ২০০৮ সালে ১৪টি মৌমাছির বাক্স নিয়ে শখের বশে শুরু হয় তার ব্যবসা। সেখান থেকে তিনি আজ কয়েক শ বাক্সের মালিক। মৌ চাষে ঘুরে বেড়ান দেশের বিভিন্ন জেলায়। তবে মাইলাগী গ্রাম থেকেই শুরু তার পথচলা।
এবার এ গ্রামের একটি জমিতে ২২৫টি বাক্স নিয়ে গড়ে তুলেছেন তার খামার। তিনি বলেন, প্রতিটি বাক্স তৈরিতে তার খরচ হয় ৫০০ টাকা। প্রতিটি বাক্সের জন্য ১০টি করে মৌচাক ক্রয় করতে হয় এবং প্রতিটি চাকের মূল্য ৫০০ টাকা। তা ছাড়া আরো ৫০০ টাকা খরচ হয় পারিশ্রমিক হিসেবে। অর্থাত্ মৌমাছিদের মধু সংগ্রহ করে জমা করার ঐ প্রতিটি বাক্সের মূল্য ৬ হাজার টাকা। প্রতিটি বাক্স দিয়ে কমপক্ষে দুই বছর অনায়াসে মধু সংগ্রহ করা যায়। সংগৃহীত মধু খুচরা বাজারে প্রতি কেজি ৩৫০-৪০০ টাকা করে বিক্রি করেন। তবে পাইকারি দাম ২০০-২২০ টাকা। তিনি সরিষা ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করেন ঘিওরের মাইলাগী গ্রাম থেকে। কালিজিরা এবং ধনিয়া থেকে মধু সংগ্রহ করেন শরীয়তপুরের জাজিরা থেকে। লিচু থেকে মধু সংগ্রহ করেন পাবনার ঈশ্বরদী থেকে। সাইফুল ইসলাম বলেন, মৌমাছি পালন করে বেশ ভালোই আছি। তবে পাইকারি মধু বিক্রিতে সরকারিভাবে দাম নির্ধারণ করে দিলে আরো বেশি লাভবান হওয়া যেত।
ঘিওর উপজেলা কৃষি কর্মকতা শেখ বিপুল হোসেন জানান, মৌমাছি পালন করে মধু সংগ্রহের পাশাপাশি ফুলের পরাগায়ন ঘটিয়ে ফসলের উত্পাদন ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব। উপজেলায় এবার সরিষা ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করছেন কমপক্ষে ১০ জন মৌচাষি। ঘিওর উপজেলা থেকে পাঁচ/সাত মেট্রিক টন মধু সংগ্রহ করা হবে বলেও জানান তিনি। দেশের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি মধু রপ্তানি করে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব।
ইত্তেফাক/এমএএম