রাব্বির হাতের ছোঁয়ায় বিকল গাড়ি সচল হয়

রাবেয়া সুলতানা রাব্বির হাতের ছোঁয়ায় বিকল গাড়ি সচল হয়। ১৬ বছর ধরে তিনি দেশের একটি শীর্ষ স্থানীয় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার গাড়ির গ্যারেজে টেকনিশিয়ান হিসেবে কাজ করছেন। অ্যাসিস্ট্যান্ট টেকনিশিয়ান হিসেবে যোগ দিয়ে মেধা পরিশ্রম ও নিষ্ঠার জোরে বর্তমান টেকনিশিয়ান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার তিন জন পুরুষ সহকর্মীর সঙ্গে সমানভাবেই দায়িত্ব পালন করছেন রাব্বি আপা।

পেশায় আসার বিষয়ে তিনি বলেন, দিনাজপুর সদরে দপ্তরি পাড়ায় এক সবজি বিক্রেতার ছয় ছেলে-মেয়ের মধ্যে রাবেয়া সুলতানা রাব্বি সবার ছোট। ২০০৩ সালে তার এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অভাবের কারণে বাবা পরীক্ষার ফি জোগাড় করতে পারেননি। রাব্বি নিজের খরচ আর পরিবারের অভাবের চাপ কমাতে সুঁই-সুতা হাতে নেন। ম্যাট, শাড়ি, পোশাকে কাজ করে আয় করতে শুরু করেন। সে সময় কেয়ার বাংলাদেশের শহর প্রকল্পে মেয়েদের সেলাই শিখিয়ে মেশিন দেওয়ার কথা রাব্বিকে জানান সংস্থার মাঠকর্মী ঝর্ণা।

আরও পড়ুন: মিরপুর মুক্ত দিবস আজ

ঝর্ণা জানান, শুধু হাতের কাজ নয়, এই প্রকল্পে মেয়েদের ড্রাইভিং শিখিয়ে চাকরি দেওয়ার কথা। তখন রাব্বি ভাবেন হাতের কাজ করে আর কত টাকা আয় হবে। বাবা-মায়ের সংসারের অভাব মিটবে না। বরং ড্রাইভিং শিখে চাকরি পেলে আয় বেশি হবে। এমন সিদ্ধান্তে বাবা রাজি হলেও মা নিম রাজি থাকেন। কারণ সমাজ মেয়েকে ড্রাইভারের আসনে দেখতে অভ্যস্ত হয়ে ওঠেনি। কিন্তু রাব্বির ইচ্ছার কাছে তা ধোপে টেকেনি। ২০০৫ সালের শুরুতে তিন মাসের ড্রাইভিং ট্রেনিং নেন রাব্বিসহ সাত নারী। তারপর ঢাকায় এসে চাকরির ইন্টারভিউও দেন। কিন্তু তিন মাসের ট্রেনিং নিয়ে ইন্টারভিউ বোর্ডকে খুশি করতে পারেননি। তাই চাকরিও হয়নি।

আরও পড়ুন: রিমোট মনিটরিংয়ের আওতায় ৯৬ থানা

বাড়ি ফিরে বিয়ের পর আবার ডাক আসে ঢাকা থেকে। এবার শ্বশুর বাড়ির সবাইকে রাজি করার পালা। স্বামীকে তার ইচ্ছার কথা জানালে স্বামী রাজি হন। ঢাকা এসে রাব্বির এক বছরের টেকনেশিয়ান ট্রেনিং শুরু হয়। চার জন মেয়ে সে সময় ট্রেনিং নিলেও চাকরিতে টিকে আছেন রাব্বি একাই। ১২ হাজার টাকা বেতনের চাকরি রাব্বি আর তার অভাবের সংসারের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। আর কোনোভাবেই তাকে পেছনে তাকাতে হয়নি। মেয়েরাও ইচ্ছা করলে ছেলেদের মতো যে কোনো পেশায় ভালো করতে পারেন।

নিজের কর্মস্থলের সহযোগিতার কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্বীকার করে রাব্বি বলেন, ‘আমাদের প্রতিষ্ঠান সব সময় আমাদের উত্সাহ দেয়। আমরা এ কাজ পারব। এমন উত্সাহ যদি আরো মেয়েরা পেত তবে তারাও এগিয়ে আসতে পারতেন বলে মনে করেন রাব্বি। ভবিষ্যতে একটি গ্যারেজ করতে চান তিনি। পাশাপাশি নিজের ছেলেকে মানুষ করার স্বপ্ন তার।’

ইত্তেফাক/এএএম