পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের কাছে রাজধানীবাসী জিম্মি। গেইটলক, ডাইরেক্ট ও সিটিং সার্ভিসের নামে প্রতারণা চলছেই। রাজধানীর ৯৬ ভাগ গণপরিবহন এখন সিটিংয়ের নামে চিটিং সার্ভিস দিচ্ছে। দেখা গেছে, পরিবহন কোম্পানিগুলো ‘সিটিং সার্ভিস’ ঘোষণা করে ভাড়া ৫ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে দাঁড়িয়ে যাত্রী নেওয়া বন্ধ হয়নি। লোকাল বাসের রুট পারমিট নিয়েই কিন্তু বাস রাস্তায় চলাচলের অনুমতি পেয়েছে। কিছু বাস সকালে অফিসের সময় ও বিকেলে ছুটির পর সিটিং সার্ভিস এবং অন্য সময়ে ‘লোকাল’ হিসেবে চলাচল করছে। এতে নগরবাসী ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
প্রশ্ন হচ্ছে, নগরীতে সিটিং সার্ভিস করে নগরবাসীকে কষ্ট দেওয়া কেন? বাসস্টপেজে চোখে পড়ে যাত্রীদের দুর্দশা। গত এক বছরে পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়ায় অবস্থার পরিবর্তন হয়নি। পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তারা কোনো নিয়মই মানছে না। সরকারের নিয়ম-নীতির কেউ তোয়াক্কা করে না। কোনো নীতিমালা না থাকায় রাজধানীর গণপরিবহনের নৈরাজ্য দূর হচ্ছে না। সিটিং সার্ভিসে চলাচল নিয়ে মালিক-শ্রমিকরা একে অপরকে দোষারোপ করছে। মালিকরা বলছেন শ্রমিকদের চাপের মুখে তাঁরা সিটিং সার্ভিসে বাস চালাতে বাধ্য হচ্ছেন। অন্যদিকে শ্রমিকদের ভাষ্য—বেশি লাভের আশায় মালিকরাই সিটিং সার্ভিস হিসেবে বাস চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। তাঁদের কথা না মানলে চাকরি থাকবে না। মূলত ‘সিটিং সার্ভিস’ বলে কোনো সার্ভিসেরই অনুমতি নেই। সিটিং সার্ভিসের নামে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধ করতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। এ ব্যাপারে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
অমিত বণিক, উত্তরা, ঢাকা