নৌ-ট্রলারযোগে লঞ্চে যাত্রী ওঠা-নামা!

মুন্সীগঞ্জের হাজার হাজার লোক প্রতিদিন চাকরি, ব্যবসা-বাণিজ্য, চিকিত্সা ও শিক্ষাসহ বিভিন্ন কাজে লঞ্চযোগে ঢাকা সদরঘাট অথবা সদরঘাট থেকে মুন্সীগঞ্জ যাওয়া-আসা করে থাকে। মুন্সীগঞ্জ থেকে ঢাকা সদরঘাটের নির্ধারিত লঞ্চ না থাকায় সাধারণত ঢাকা-চাঁদপুর/বরিশাল/পটুয়াখালি/বরগুনা/ভোলা অর্থাত্ দক্ষিণাঞ্চল থেকে আগত লঞ্চে মুন্সীগঞ্জ-সদরঘাট যাতায়াত করতে হয়। চাঁদপুর-ঢাকাগামী ছোট দু-একটি লঞ্চ আসা-যাওয়ার পথে মুন্সীগঞ্জ লঞ্চঘাটে লঞ্চ থামিয়ে মালামাল ওঠায়-নামায়। মালপত্র না থাকলে ঢাকা-চাঁদপুর/দক্ষিণঞ্চলগামী লঞ্চ থামানো হয় না। ঘাটজমা (ইজারা) বেশি হওয়ার কারণেই লঞ্চ কর্তৃপক্ষ ঘাটে লঞ্চ থামাতে অপারগতা প্রকাশ করেন। ফলে মুন্সীগঞ্জ থেকে সদরঘাট অথবা চাঁদপুর/দক্ষিণাঞ্চলের কোথাও লঞ্চে যাতায়াতের জন্য লঞ্চঘাটের নির্ধারিত ইঞ্জিনচালিত নৌ-ট্রলারের মাধ্যমে মাঝপথে লঞ্চের গতি কমিয়ে চলন্ত অবস্থায় যাত্রী ও তাদের মালপত্র ওঠায়-নামায়। প্রতি ট্রলারে গাদাগাদি করে ৭০ থেকে ১০০ জন এবং জনপ্রতি ১৫ থেকে ২০ টাকা, মালপত্রের জন্য আলাদা ভাড়া দিতে হয়। তাছাড়া ঈদ-পূজাপার্বণ উপলক্ষে জনপ্রতি ৫০ থেকে ১০০ টাকা করে নেওয়া হয়ে থাকে।  নৌ-ট্রলার থেকে লঞ্চে ওঠা-নামার সময় শিশু, গর্ভবতী নারী, বৃদ্ধ, রোগী এবং প্রতিবন্ধীরা ভীষণ কষ্ট পায় এবং মাঝে মধ্যে ট্রলারের লোকজন দ্বারা লাঞ্ছিত হয়। ট্রলারযোগে মাঝ নদীতে লঞ্চে যাত্রী বা মালপত্র  ওঠানো-নামানোর সময় দুর্ঘটনাও ঘটে। জানা যায়, উেকাচের বিনিময়ে বিআইডব্লিউটিএ-র কিছু লোককে ম্যানেজ করে লঞ্চঘাট ইজারাদার কর্তৃপক্ষের অতিরিক্ত অর্থোপার্জন যাত্রীদের দুর্ভোগ বাড়িয়ে দিয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। পরিশেষে,  লঞ্চযাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

মুহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ

সবদারপাড়া, মুন্সীগঞ্জ