আপনি তারার মতো জ্বলবেন

মুক্তিযোদ্ধা, বরেণ্য গীতিকার, সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালক আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ তারকাজগত্। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ প্রিয় শিল্পীর জন্য শোক প্রকাশ করছেন—

= বুলবুল ভাই মাসে গড়ে প্রায় দশটা ছবি হাতে নিতেন এবং তার বেশিরভাগ গান আমাকে দিয়েই গাওয়াতেন। নিজে অনেক গবেষণা করতেন কিন্তু গানের কণ্ঠের ব্যাপারে নির্ভরশীল হতে চাইতেন। এর পর আসলেই আমাকে পেছনে তাকাতে হয়নি। প্রায় প্রতিটি গানই মাইলফলক হয়ে যাচ্ছিল। তার গানেই প্রায় সব পুরস্কার পাওয়া আমার! তার প্রতি আমার কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। আমি বিশ্বাস করি আমরা পুরো জাতিই ধন্য যে আমাদের একজন আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল আছে। আর একটি কথা আমি উচ্চকণ্ঠে বলতে চাই ‘সব কটা জানালা খুলে দাও না’—এই গানটি ছাড়া আর যদি কোনো গানই সুর না করতেন তাহলেও বাংলাদেশ তার কাছে সমান কৃতজ্ঞ থাকতো।

 

কনক চাঁপা, সঙ্গীতশিল্পী

 

= যখন শুনলাম ও চলে গেল, একেবারে নির্বাক হয়ে গেলাম। অভিমানী ছিল। অভিমান নিয়েই নীরবে নিভৃতে চলে গেল। বুলবুলের মৃত্যুর খবর পেয়ে আমার ছেলেও হতবাক হয়ে গেছে। ওকে অনেক আদর করতো। জীবন আসলে এই বিদায়ের নিয়তি মেনেই সুন্দর।

 

ইলিয়াস কাঞ্চন, চিত্রনায়ক

 

= আমি আসলে বলার ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না। আমার প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাই প্রেমের তাজমহল সিনেমার গান গেয়ে। গানটি লিখেছিলেন ও সুর করেছিলেন আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল ভাই। এরপর তার লেখা ও সুর করা অসংখ্য গান গাওয়ার সুযোগ হয়েছে আমার। তার এই চলে যাওয়া সঙ্গীত জগতে বিরাট এক শূন্যতা তৈরি করে গেল।

 

মনির খান, সঙ্গীতশিল্পী

 

= এটা আমার সত্যি দারুণ এক সৌভাগ্য যে, আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের মতো কিংবদন্তী যে দুটি ছবির জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন দুটি ছবিরই নায়ক আমি। এটা কাকতালীয়, এটা গর্ব করে বলার মতো একটা প্রাপ্তি। এই দেশের সঙ্গীতাঙ্গনে একজন আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের বিকল্প হয় না। গান লিখতে, সুর করতে ও সঙ্গীত পরিচালনায় দুর্দান্ত ছিলেন তিনি। আপাদমস্তক একজন শিল্পী ছিলেন বুলবুল ভাই। আমি তাকে সবসময় শ্রদ্ধা করেছি। তিনিও আমাকে খুব পছন্দ করতেন। আমি জানি না কেন এমন হতো, যখনই তিনি আমার অভিনীত সিনেমার গান করতেন সেগুলো একটি বেশিই দরদ মেশানো থাকতো যেন! প্রকাশ হলেই দর্শক-শ্রোতা লুফে নিতেন।

 

রিয়াজ, চিত্রনায়ক