তাড়াশে অধিকাংশ ব্রিজ কালভার্টের মুখ বন্ধ!

তাড়াশে এলজিইডির আওতাধীন ব্রিজ ও কালভার্টগুলোর অধিকাংশেরই মুখ বন্ধ করে নির্মাণ করা হয়েছে কাঁচা-পাকা বসতঘর, হাঁস-মুরগির খামার ও ছোট-বড় শিল্পকারখানা। শুধু তাই নয়, ব্রিজ-কালভার্টের মুখের চারপাশে মাটি ফেলে পুকুরের পাড় বেঁধে মাছ চাষ করা হচ্ছে।

ভুক্তভোগী কৃষক মনছুর রহমান, সুলতান মাহমুদ, ছোহরাব আলী, শামসুল হক, ছাবেদ আলী, জুরান আলী, মজিবর মল্লিক, রেজাউল করিম, জহুরুল ইসলাম, আব্দুল মোতালেব, শাহাদত হোসেনসহ অনেকে জানিয়েছেন, কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তি ও স্বার্থান্বেষী মহল হাজারো কৃষকের জীবন-জীবিকার কথা না ভেবে ব্রিজের মুখ বন্ধ করে সুবিধা ভোগ করছেন। এ কারণে তাড়াশ সদর ইউনিয়নের মাধবপুর, মথুরাপুর, চক গোপীনাথপুর, বিদিমাগুড়া ও বোয়ালিয়া এলাকায় এখনো ২ হাজার বিঘা জমিতে বন্যার পানি আটকে আছে। এতে আবাদ ব্যাহত হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, অনেক ব্রিজ ও কালভার্ট দিয়ে পানি নিষ্কাশন বন্ধ হওয়ার কারণে অসময়ে দেখা দিচ্ছে জলবদ্ধতা। দেখা গেছে, আড়ঙ্গাইল-কুমাল্লু গ্রামীণ সড়কের কুমাল্লু গ্রাম এলাকার একটি ব্রিজের চারপাশে পাকা শেড নির্মাণ করে মুরগির খামার করা হয়েছে। কাটাগাড়ী-তারাটিয়া গ্রামীণ সড়কের টাগরা গ্রাম এলাকায় ব্রিজের মুখে ইটের প্রাচীর দিয়ে শিল্পকারখানা গড়ে তোলা হয়েছে।

মথুরাপুর-ভায়াট গ্রামীণ সড়কের ভায়াট মোড় এলাকায় ব্রিজের মুখ বন্ধ করে সেমিপাকা বসতঘর নির্মাণ করা হয়েছে। কাস্তা-গুড়মা গ্রামীণ সড়কের কাস্তা গ্রাম এলাকায় ব্রিজের চারপাশে পাড় বেঁধে মাছ চাষ করা হচ্ছে। এ ছাড়া তাড়াশ-বারুহাস আঞ্চলিক সড়কের কহিত ও বারুহাস গ্রাম এলাকায় দুটি ব্রিজ, তাড়াশ-কাটাগাড়ী আঞ্চলিক সড়কের টেলিফোন অফিস মোড় এলাকায় একটি ব্রিজ, ঐ সড়কেরই কাস্তা বাজার এলাকায় আরো দুটি ব্রিজ, বায়ালিয়া-নওগাঁ গ্রামীণ সড়কের দুটি ব্রিজ, মঙ্গলবাড়িয়া-রামকৃষ্ণপুর গ্রামীণ সড়কের তিনটি ব্রিজ ও খালকুলা-নওগাঁ সড়কের পাঁচটি কালভার্ট একেবারে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লুত্ফুননাহার লুনা বলেন, ‘অধিকাংশ ব্রিজ-কালভার্টের মুখ বন্ধ থাকায় প্রতি বছরই বন্যার পানি নামতে দেরি হচ্ছে। কোনো কোনো মাঠে এখনো বন্যার পানি আটকেই রয়েছে। সর্বোপরি জমিতে চাষের অবস্থা না থাকায় ২ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে রবিশস্য আবাদ করতে পারেননি কৃষক। এ প্রসঙ্গে উপজেলা প্রকৌশলী বাবলু মিয়া দৈনিক ইত্তেফাককে বলেন, ‘উপজেলায় ৫৬৬টি ব্রিজ-কালভার্ট রয়েছে।

এগুলোর মধ্যে বেশ কয়েকটির মুখ বন্ধ অবস্থায় চিহ্নিত করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে ব্রিজ-কালভার্টগুলোর মধ্য দিয়ে পানির প্রবাহ নিশ্চিত করা হবে।’ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেজবাউল করিম বলেন, ‘বিভিন্ন স্থানে ব্রিজ ও কালভার্টের মুখ বন্ধ অবস্থায় রয়েছে। এগুলোর মধ্য দিয়ে পানির প্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে।’

ইত্তেফাক/এসআই