চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের প্রধান ফটক বিক্ষোভকালে উপড়ে ফেলেছে শিক্ষার্থীরা

আপডেট : ১৫ জুলাই ২০২৬, ০১:০৬

সাত দফা দাবি আদায় এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের প্রধান ফটক উপড়ে ফেলে বিক্ষোভ করেছেন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে নগরীর মুরাদপুর এলাকায় শিক্ষা বোর্ডের সামনের সড়ক অবরোধ করে এই বিক্ষোভ করেন বিভিন্ন কলেজের পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় পরীক্ষা নেওয়ায় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা এ সময় বোর্ডের সচিবের কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার সকাল থেকেই মুরাদপুর এলাকায় শিক্ষা বোর্ডের সামনে জড়ো হতে থাকেন পরীক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিতে শুরু করেন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে একদল শিক্ষার্থী শিক্ষা বোর্ডের ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় শিক্ষার্থীদের চাপে বোর্ডের প্রধান ফটকটি খুলে গেলে উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা সেটি কাঁধে তুলে মূল সড়কের দিকে নিয়ে যান। শিক্ষার্থীদের এই আকস্মিক অবস্থানের কারণে নগরীর দুই নম্বর গেট থেকে মুরাদপুরমুখী সড়কের একপাশে দীর্ঘ সময় যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ থাকে।

বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের প্রধান অভিযোগ, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় পরীক্ষা পেছানোর জোরালো দাবি থাকলেও তা উপেক্ষা করে সোমবার পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। এতে পরীক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। শিক্ষার্থীদের জমা দেওয়া সাত দফা দাবির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—সারা দেশের সব শিক্ষা বোর্ডে একই সঙ্গে পরীক্ষা গ্রহণ করা, একটি বোর্ডে পরীক্ষা স্থগিত রেখে অন্যগুলোতে চালু না রাখা, গত সোমবার বৈরী আবহাওয়ার কারণে যারা পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি তাদের জন্য পুনরায় পরীক্ষার ব্যবস্থা করা এবং বন্যায় যাদের প্রবেশপত্র ও রেজিস্ট্রেশন কার্ড নষ্ট হয়েছে তাদের দ্রুত নতুন কার্ড সরবরাহ করা।

আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী আবু রায়হান বলেন, ‘দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে পরীক্ষা দিতে গিয়ে অনেকের রেজিস্ট্রেশন কার্ড ও প্রবেশপত্র ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে। বৃষ্টিতে ভিজে অনেক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। আমাদের দাবি অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট। কোনো একটি বোর্ডে নয়, সারা দেশের সব বোর্ডের পরীক্ষা একসঙ্গে স্থগিত করতে হবে। একই সঙ্গে প্রশ্নপত্রে ভুলের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।’

পরে শিক্ষার্থীরা চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সচিব অধ্যাপক মোহাম্মদ জহিরুল হক স্বপনের কাছে তাদের দাবি সংবলিত স্মারকলিপি জমা দিলে তিনি সমাধানের আশ্বাস দেন। এ বিষয়ে বোর্ড সচিব জানান, শিক্ষার্থীদের স্মারকলিপি গ্রহণ করা হয়েছে। প্রশ্নপত্রের ভুলের বিষয়ে আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। আর বন্যায় বা বৃষ্টিতে যাদের প্রবেশপত্র নষ্ট হয়েছে, তারা বোর্ডে এলেই সঙ্গে সঙ্গে নতুন করে তা সরবরাহ করা হচ্ছে।

সড়ক অবরোধ ও যানজটের বিষয়ে নগরীর পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহেদুল ইসলাম জানান, পরীক্ষার্থীরা দুপুর থেকে সড়কে অবস্থান নেওয়ায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছিল। তবে বিকেল চারটার পর শিক্ষার্থীরা নিজেদের কর্মসূচি শেষ করে সড়ক ছেড়ে দিলে ওই এলাকার যান চলাচল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসে।

ইত্তেফাক/এনএন