চাহিদা মতো যৌতুক না দেওয়ায় ভেঙে যায় বিয়ে

কনেপক্ষ তিন ভরি স্বর্ণের গহনা ও একটি ১৫০ সিসি পালসার মোটরসাইকেল দেওয়ার সামর্থ্য পোষণ করেন। কিন্তু বরপক্ষের যৌতুকের চাহিদা তার থেকেও বেশি। এ কারণে ভেঙ্গে যায় বিয়ে। 

নিরুপায় হয়ে কনে চলে যায় তার হবু বর রাসেলের বাড়িতে। সিরাজগঞ্জ জেলার তাড়াশ উপজেলায় বৃহস্পতিবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকালে এ ঘটনা।

হবু বর রাসেলের বাড়ি নওগাঁ ইউনিয়নের কালুপাড়া ভায়াট গ্রামে। তার বাবার নাম মোবারক আলী। তিনি তাড়াশ সোলাপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। 

কনে বলেন, নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে তিনি। তারপরও তার বাবা শুধু তার সুখের কথা ভেবে বিয়েতে ওই পরিমাণ টাকার যৌতুক দিতে রাজি হয়। কিন্তু ছেলের অভিভাবকরা আরও দুই ভরি স্বর্ণের হাতের দুটি রুলি দাবি করে। শেষপর্যন্ত মেয়ের বাবা-ছেলের পক্ষের এত টাকার যৌতুকের চাহিদা মেটাতে অপারগতা প্রকাশ করেন। 

কনে আরও বলেন, গত জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময়ে সম্পূর্ণ পারিবারিকভাবে তার বিয়ের কথা হয় রাসেলের সঙ্গে। এরই মধ্যে তার হবু বরের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথাবার্তা বলার একপর্যায়ে ভালো লাগা থেকে ভালবাসার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কিন্তু যৌতুক না পেয়ে রাসেলের অন্য মেয়ের সঙ্গে বিয়ে ঠিক করেন তার বাবা। 

সরেজমিনে শুক্রবার সকালে ঘটনাস্থলে এ প্রতিবেদকের উপস্থিতি টের পেয়ে গা ঢাকা দেন রাসেল। তার বাবা ও মাকেও পাওয়া যায়নি। কিন্তু রাসেলের ফুপা দিলদার আলী প্রামানিক বলেন, যৌতুকের দাবি না মেটালে তো বিয়ে হয় না। তিনি নিজেও কদিন আগে তার মেয়েকে যৌতুক দিয়েই বিয়ে দিয়েছেন। 

নওগাঁ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মজনু সরকার বলেন, যৌতুক ছাড়াই ভুক্তভোগী মাহফুজা খাতুনকে স্ত্রী হিসেবে মেনে নেওয়ার জন্য রাসেলের বাবার সঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছে। 

এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেজবাউল করিম ইত্তেফাককে বলেন, যৌতুক দাবি করা ও যৌতুক দিতে চাওয়া সমান অপরাধ। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইত্তেফাক/জেডএইচ