খুলনা মহানগরীর প্রবেশদ্বার গল্লামারীর পাশ দিয়ে প্রবাহিত ময়ূর নদের অস্তিত্ব আজ বিলীনের পথে। দখল এবং দূষণের কারণের এ নদ এখন মৃতপ্রায়। দখল করে নদীর গল্লামারী অংশের ব্রিজের পশ্চিম পাশে মার্কেট নির্মাণের কাজ করছে একটি মহল। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি না থাকায় নদীর মূল অংশও দখল হয়ে যাচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পুরাতন গল্লামারী ব্রিজের পশ্চিম পাশে নদের মূল অংশের প্রায় ৩০-৩৫ ফুট দখল করে বালু ও মাটি ভরাটের কাজ চলছে। শ্রমিকরা দ্রুত গতিতে ভরাটের কাজ করছে। নদীর এ অংশে মার্কেট নির্মাণ করছেন আলোকিত মুকুল ফাউন্ডেশন নামে একটি বেসরকারি সংস্থার চেয়ারম্যান। ইতিমধ্যেই নগরীর একটি বড় অংশ দখল করে পাইলিং করে ভরাটও করা হয়েছে। এ অভিযোগে সম্প্রতি লবণচরা থানা পুলিশ তাকে আটক করে থানায়ও নিয়ে যায়। তবে, অজ্ঞাত কারণে তাকে আবার ছেড়েও দেওয়া হয়েছে।
আলোকিত মুকুল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান রকিবুল জাহিদ মুকুল বলেন, ‘আমি আমার জমিতে মার্কেট তৈরি করছি। ময়ূর নদের জায়গা দখল করিনি। নদের যদি এক ইঞ্চি জায়গাও আমার মার্কেটের মধ্যে পড়ে, তাহলে আমি সেই জায়গা ছেড়ে দেব।’
দখলের ব্যাপারে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সারোয়ার আহমেদ সালেহীন বলেন, ‘বিষয়টি আমরাও শুনেছি। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরেজমিন তদন্তের জন্য লোক পাঠানো হয়েছিল। আমরা কাজ বন্ধ রাখতে বলেছি। কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’
বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির মহাসচিব শেখ আশরাফ-উজ-জামান বলেন, দখল দূষণের বিরুদ্ধে আন্দোলন চলাকালে হঠাত্ করে নদীর পাড়ে দখলদারদের আনাগোনা বেড়েছে। তাছাড়া এর পানি অনেক আগেই ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। আমরা বিভিন্ন সময়ে এটি রক্ষার জন্য প্রশাসনকে জানিয়েছি। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে দখলদাররা এটি পুরোপুরি দখল করে ফেলবে।
উন্নয়নকর্মী জনউদ্যোগের সদস্য সচিব মহেন্দ নাথ সেন জানান, ময়ূরের দু’ পাড় থেকেই সরকারি-বেসরকারিভাবে দখলযজ্ঞ চলছে। একে বাঁচাতে হলে খুলনার ২২টি খালের উপর থেকে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করতে হবে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) খুলনা বিভাগীয় সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার বলেন, মানুষের দখল-দূষণে ময়ূর মৃতপ্রায়। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে তা খুলনাবাসীর জন্য খারাপ পরিণতি বয়ে আনবে।