বিভেদ থাকলে দ্বীনের প্রচার করবেন কিভাবে

 ‘বিশ্ব ইজতেমার মতো ধর্মীয় বিষয় নিয়ে নিজেদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি হলে আপনারা দ্বীনের প্রচার করবেন কীভাবে? আগে নিজেদের মধ্যকার বিভেদ নিরসন করুন। শান্তিপূর্ণ অবস্থায় থেকে এক হোন। নিজেদের মধ্যে বিভেদ থাকলে সাধারণ মানুষের কাছে কি জবাব দেবেন? মানুষ তো তখন বলবে, আগে নিজেরা শুদ্ধ হোন তারপর আমাদের শুদ্ধ করতে আসেন’-বিশ্ব ইজতেমা নিয়ে রিটের শুনানিতে রিটকারীর আইনজীবীর উদ্দেশ্যে বিচারপতি জেবিএম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের সমন্বয়ে  গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল মঙ্গলবার এ মন্তব্য করেন। আদালত বলেন, এ ধরনের ধর্মীয় বিষয় আদালতে টেনে আনা লজ্জাজনক। 

টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠানের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেন ঢাকার তেজগাঁও এলাকার বাসিন্দা ইউনূস মোল্লা। রিটে বাংলাদেশে দাওয়াতে তবলিগের কার্যক্রম সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে গত ১৮ সেপ্টেম্বর পাঁচ দফা নির্দেশনা দিয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের জারিকৃত পরিপত্র পুনর্বহালের আদেশ চাওয়া হয়।

গতকাল শুনানিতে রিট আবেদনকারীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট শাহ মো. নুরুল আমিন আবেদনের বিষয়বস্তু তুলে ধরেন। এ পর্যায়ে আদালত বলেন, আগে নিজেদের মধ্যেকার বিভেদ, দ্বন্দ্ব নিরসন করুন। এরপর আবেদন শুনব। ওই আইনজীবী বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব নিরসনের চেষ্টা চলছে। ওই দ্বন্দ্ব নিরসন না হলে সরকার দুই পক্ষকে আলাদা-আলাদাভাবে ইজতেমা পালনের যে নির্দেশনা দিয়েছেন তাই পালন করা হবে।

শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মোতাহার হোসেন সাজু বলেন, বর্তমান সরকার ইজতেমার বিপক্ষে নয়। এই ইজতেমার মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ মসুল্লিদের যে মিলনমেলা হয় তার মধ্য দিয়ে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশ অনন্য পরিচিতি পেয়েছে। বর্তমানে ইজতেমার দুটি পক্ষের মধ্যে যে বিভেদ চলছে এটা নিরসন না হলে হয়তো আগামীতে মালয়েশিয়া বা পাকিস্তানে এটা অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, ২০১১ সালের আগে সকল পক্ষকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হত। সরকার সেইভাবেই ইজতেমার আয়োজন করতে চায়।