বিআরটিসিতে দুর্নীতি অনিয়ম বাসা বেঁধেছে :কাদের

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি)  অতীত খুব এটা সুখকর নয়। এখানে অনিয়ম-দুর্নীতির জঞ্জাল দীর্ঘদিন ধরে বাসা বেঁধেছে।  কোনো কর্মকর্তা কত টাকা বেতন পান, কোথা থেকে কত টাকা আসে সব আমি জানি।

গতকাল বুধবার দুপুরে রাজধানীর মতিঝিল বিআরটিসি ভবনে মন্ত্রণালয়ে পুনরায় দায়িত্ব পেয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় সংস্থাটির চেয়ারম্যান ফরিদ আহমেদসহ অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সড়ক পরিবহন মন্ত্রী বলেন, বিআরটিসি’র বহরে নতুন আরো ১১০০টি গাড়ি যুক্ত হচ্ছে। এরমধ্যে ৩০০ ডাবল  ডেকার (দ্বিতল বাস), ৩০০ সিঙ্গেল ডেকার বাস রয়েছে। এসব বাসের মধ্যে ২০০টি এসি এবং ১০০টি নন এসি। এছাড়া ৫০০টি ট্রাক যুক্ত হবে।

এপ্রিল মাসের মধ্যেই এসব গাড়ি চলে আসবে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, এরইমধ্যে কিছু গাড়ি গাজীপুরে চলে এসেছে, কিছু গাড়ি দু’একদিনের মধ্যেই সীমান্তে চলে আসবে। তিনি  আরো বলেন, নতুন গাড়ি আসবে। এতে জনগণ বিশেষ করে গণপরিবহনের সংকট দূর হবে। জনগণের জন্য সেটা স্বস্তির খবর, কিন্তু আমার অভিজ্ঞতা সুখকর নয়। এর আগেও গাড়ি এসেছে, এইসব গাড়ি মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বাজে অবস্থায় রয়েছে। নতুন গাড়িগুলো কতদিন  টেকসই হবে এ নিয়ে আমার প্রশ্ন রয়েছে।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, সংস্থার গাড়িবহর পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং রাজস্ব আহরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সফটওয়্যারভিত্তিক ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা চালু করা হচ্ছে। এরই মধ্যে কল্যাণপুর, মতিঝিল ও গাবতলী ডিপোতে পরীক্ষামূলক ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা শুরু হয়েছে। এতে দুর্নীতি কমার পাশাপাশি সেবার মান বৃদ্ধি পাবে।

কর্মকর্তাদের দুর্নীতির ইঙ্গিত দিয়ে মন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম, এই নগরীতে। হঠাত্ একটা বিআরটিসি বাসে যখন আমি উঠি, তখন  দেখি সিটে ছাল-বাকল উঠে গেছে। এসি কাজ করে না। এই অবস্থা দীর্ঘদিন ধরে। বাইরে গাড়ির দিকে তাকানো যায় না। সঠিক ব্যক্তির হাতে নতুন গাড়ির দায়িত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, সঠিক ব্যক্তির হাতে দায়িত্ব না পড়লে বিআরটিসি’র আগের পরিণতি-ই হবে।

বিআরটিসি চেয়ারম্যানকে উদ্দেশ্য করে মন্ত্রী বলেন, যেসব গাড়ি বিভিন্ন জায়গায় লিজ দেওয়া আছে সেগুলোর হিসাব দিতে হবে। কার কাছে কত বছর ধরে কতটি গাড়ি আছে, কিসের বিনিময়ে আছে, এগুলো জানা দরকার। তা না হলে কোটি কোটি ডলার খরচ করে বিদেশ থেকে গাড়ি এনে জনস্বার্থের কোনো উপকার হবে না।