সরিষা চাষ স্বল্প সময়ে উৎপাদনশীল একটি লাভজনক রবিশষ্য। যে কারণে শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে সরিষা চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের মধ্যে। এ উপজেলায় দিনে দিনে সরিষা চাষ জনপ্রিয় হয়ে উঠতে শুরু করেছে। বৃদ্ধি পাচ্ছে কৃষকের সংখ্যাও।
অতীতে এ উপজেলার কৃষকরা শুধু নিজেদের তেলের চাহিদা পূরণের জন্য সরিষা চাষ করতো। কিন্তু আমন ফসল ঘরে তোলার পর স্বল্প সময়ে সরিষা একটি লাভজনক ফসল হওয়ায় এখন বাণিজ্যিকভাবে সরিষা চাষাবাদ শুরু করেছে কৃষকরা। এ চাষের পাশাপাশি এখান থেকে উৎপাদন হচ্ছে প্রকৃতির বিশুদ্ধ মধু।
বর্তমানে উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলের মাঠ সরিষার হলুদ ফুলে ভরে উঠেছে। সরিষার এসব হলুদ ফুলে ভরে উঠা মাঠের দিকে তাকালে মনে হয় তা যেন হাতছানি দিচ্ছে হলুদ ফুলে হারিয়ে যেতে। হলুদ ফুলে মৌমাছিরা মনের আনন্দে যেমন মধু সংগ্রহের নেশায় ছুটে আসে সরিষা ক্ষেতে তেমনি সরিষা চাষ লাভজনক হওয়ায় চাষীরাও মনের আনন্দে ঝুঁকে পড়ছে সরিষা চাষে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সরিষা চাষে কৃষকদের প্রতি হেক্টর জমিতে উৎপাদন খরচ হয় ২০হাজার টাকা। আর উৎপাদিত সরিষা বিক্রি হয় প্রায় ১লাখ টাকায়। আমন ধান কাটার পর বোরো মৌসুমের পূর্বেই ৮০-৯০ দিনের মধ্যেই কৃষকরা অনায়াসে ঘরে তুলতে পারে এ ফসলটি। সরিষা ঘরে তোলার পর সরিষা আবাদকৃত জমির উর্বরতা বৃদ্ধি পায়। ফলে এসব জমিতে বোরো উৎপাদনও হয় বেশি।
উপজেলা কৃষি সম্প্রাসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মোঃ হুমায়ুন কবির বলেন, ‘এ উপজেলায় গত বছর সরিষা আবাদ হয়েছিল ১৫০ হেক্টর জমিতে। এবার আবাদ হয়েছে ৩৫০ হেক্টর জমিতে। এ উপজেলায় সরিষা চাষীর সংখ্যা প্রায় ১হাজার।’
তিনি আরো বলেন, ‘উপজেলার বিভিন্ন স্থানে প্রায় ১শ জন মৌচাষী প্রাকৃতিক উপায়ে মধু সংগ্রহ করছেন। তারা প্রায় ৫০০ কেজি মধু সংগ্রহের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করে সংগ্রহের কাজ চালিয়ে আসছেন।’
আরও পড়ুনঃ শার্শায় সরিষা চাষ করে লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা
তিনি আরোও বলেন, ‘আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে সারিষার ভালো ফলনের পাশাপাশি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের উদ্যোগ ও পরামর্শে আগামীতে সরিষা আবাদের পরিমাণ আরো বৃদ্ধি পাবে। কৃষক সমৃদ্ধ হবে।’
ইত্তেফাক/নূহু