আড়াইহাজারের চৌদ্দার চর হতে পারে আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র

সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা পেলে আড়াইহাজারের চৌদ্দার চর হবে আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র। চরটি আড়াইহাজার উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের মাঝখানে অবস্থিত। জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ জেলার প্রাকৃতিক শোভা সমৃদ্ধ আড়াইহাজার উপজেলার এই চরের সৌন্দর্য সত্যিই মুগ্ধ করার মতো। এই শীতে পরিবার-পরিজন অথবা বন্ধুদের নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন ঢাকার অদূরেই আড়াইহাজার।

আড়াইহাজার উপজেলার সর্বপূর্বে খাগকান্দা, কালাপাহাড়িয়া ও উচিত্পুরা  ইউনিয়নের মধ্যদিয়ে চলে গেছে মেঘনা। মেঘনার করালগ্রাসে কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের মধ্যাচর গ্রামের অনেকাংশ বিলীন হতে হতে খাগকান্দার কাছে নদীর মাঝখানে পড়েছে বিশাল চর। সেই চৌদ্দার চর ধীরে ধীরে স্থায়ি হয়েছে বেশ কয়েক বছরে। সেখানে এখন কৃষক ফসল ফলাতে পারে; কিন্তু কয়েক বছর যাবত্ দেখা যাচ্ছে চৌদ্দার চরে বিভিন্ন এলাকার মানুষের আনাগোনা। আর তারা সকলেই আসে এখানে ঘুরতে, নিজেকে প্রশান্তির বাতাসে ডুবাতে, প্রকৃতির সাথে মিশে যেতে।

চৌদ্দার চরের সৌন্দর্য আর মেঘনার উচ্ছল জলরাশি ভ্রমণ পিপাসুদের  মন কেড়ে নেয়। দারুণ স্বচ্ছ নীলাভ জল রয়েছে এখানে। মেঘনার এই জলে মনের আনন্দে সাঁতার কাটেন ভ্রমণ পিপাসুরা।

ভাটার সময় এখানে ১০-১৫ ফুট উঁচু বালির চর থাকে। এখানে বালি অনেক শক্ত তাই কোনো চোরাবালির ভয় নেই। চরের বুক জুড়ে ছুটে চলে হাঁসের দল, উড়ে চলে কাক, ঈগল ও গাঙচিল, সাদা বকের স্নিগ্ধতা আর রাজহাঁসের রাজত্ব এই বালুর বুকে। হাঁটতে হাঁটতে দেখা মেলে শামুক ও ঝিনুকের। খোলা আকাশে পাখির মেলা আর মাঝে মাঝে ট্রলার আর জাহাজের শব্দ এখানে সৃষ্টি করে অনাবিল সৌন্দর্যের।

বর্ষা বেশি হলে এই চর ডুবে যায়। আবার বর্ষা কমে গেলে চর ভেসে উঠে। বাচ্চাদের জন্যও দারুণ এক জায়গা এটি। চরের ছাগল ছানাদের নিয়ে খেলা করে, বালিতে খেলা করে, শামুক ঝিনুক কুড়িয়ে প্রচুর আনন্দ পায় তারা। আর নদীতে ঘুরার সময় নানান রকম শীতের পাখির দলের উড়াউড়ি তো আছেই। এখানকার নরম ঘাস আর গ্রামীণ মেঠো পথের সৌন্দর্য আগতদের মুগ্ধ করে। সূর্যাস্তের সময় গোধূলির সোনালি আলোয় পুরো চর মোহনীয় রূপধারণ করে।

কয়েক বছর যাবত্ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের ভিড় দেখা যায় চৌদ্দার চরে। দিন যাচ্ছে আর মানুষের আনাগোনা বাড়ছে চরে বালিময় স্থানে। বর্তমানে পর্যটন কেন্দ্রের মতো তেমন সুযোগ-সুবিধা না থাকায় ভ্রমণকারীদের মুখোমুখি হতে হচ্ছে নানান সমস্যার। সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা পেলে আড়াইহাজারের মেঘনার চর তথা চৌদ্দার চর হয়ে উঠতে পারে আরেক কুয়াকাটা। খাগকান্দা ইউপি চেয়ারম্যান আরিফুল ইসলাম জানান, আমরা চরটিতে পর্যটন কেন্দ্র নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি।