নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের সনমান্দি ও বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের সবজি মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপে রপ্তানি হচ্ছে। ফলে এ এলাকার লোকজন দিন দিন সবজি চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। চাষিরা অধিক মুনাফার জন্য ফসলি জমি ছাড়াও লিচুবাগানের ফাঁকে ফাঁকে চাষ করছেন বিভিন্ন ধরনের সবজি। তবে সনমান্দি ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি সবজি চাষ হয়। বিশেষ করে শীত মৌসুমে সনমান্দিতে লাউ চাষ হয় অনেক। সোনারগাঁওয়ের অন্যান্য ইউনিয়ন থেকে রপ্তানিযোগ্য সবজি সংগ্রহ করা হলেও শীত মৌসুমে সনমান্দি ও বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়ন থেকে সবচেয়ে বেশি সবজি রপ্তানি হয়ে থাকে। এতে চাষিরা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।
জানা গেছে, সোনারগাঁওয়ের সনমান্দি ইউনিয়নের মগবাজার, নাজিরপুর, দড়িকান্দি, বাংলাবাজার, নোয়াকান্দি, অলীপুরা, কুমারগাঁও, নয়ানগর, বাটিরচর, সনমান্দি এলাকায় ও বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের হাড়িয়া, উলুকান্দি, গাবতলী, খংসারদী, দিঘি চানপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় গ্রীষ্ম ও শীতকালীন সবজি চাষ হয়। এসব এলাকা থেকে মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের দেশগুলোতে নিয়মিত রপ্তানি হচ্ছে রজব পাতা, লাই পাতা, লাউ শাক, বরবটি, কাঁকরোল, উচ্ছে, ঝিঙে, লালশাক, পালংশাক, ডাঁটা, জালি, কচুমুখী, কচু, মিষ্টিকুমড়া, বেগুন, টম্যাটো, পটোল, চাল কুমড়া, লাউ, কাঁচা পেঁপে, কাঁচাকলা, শসা ও শীতকালীন সবজি শিম, লাউ, বাঁধা কপি, ধনিয়াপাতা, টম্যাটো, কাঁচা মরিচ, মুলাসহ অর্ধশতাধিক সবজি। এসব সবজি চাষ করে চাষিরা স্বাবলম্বী হয়ে উঠছেন। সবজি চাষে নারীরাও সহযোগিতা করছেন। তবে এ মৌসুমে করোনার কারণে বিদেশে সবজি রপ্তানিতে এ ব্যাঘাত ঘটছে বলে জানান রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের লোকজন।
সোনারগাঁও থেকে সবজি রপ্তানিকারক এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, তাদের একটি সবজি রপ্তানিকারক সংস্থা রয়েছে। যার নাম বাংলাদেশ ফ্রুটস ভেজিটেবলস অ্যান্ড অ্যালাইড প্রোডাক্স এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন। এ সংস্থার মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর প্রায় ৮০০ কোটি টাকার সবজি বিদেশের বাজারে রপ্তানি করে থাকে। এ মৌসুমে করোনায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
সরেজমিন সনমান্দি ও বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, নিচু ও উঁচু জমির এলাকার পাশাপাশি বাড়ির আঙিনা, রাস্তার পাশে সবজি চাষ করছেন কৃষকরা। লাউ চাষের পাশাপাশি রজব পাতা ও লাই পাতাসহ মিশ্র চাষ করছেন কৃষকরা।
সনমান্দি ইউনিয়নের নাজিরপুর ও মগবাজার গ্রামের লাউচাষি মোবারক হোসেন, শাহজালাল মিয়া, তোফাজ্জল, কবীর, গোলজার, আমানউল্লাহ, মোক্তার, মতিন, আমির জানান, তাদের উত্পাদিত লাউ বিদেশে রপ্তানি করা হয়। তারা শুধু সনমান্দি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে এ বছর প্রায় ৭০ কানি জমিতে লাউ চাষ করেছেন। গত ২ বছর লাউ চাষ করে বেশ লাভবান হয়েছেন তারা। ফলে এ বছর সবাই অধিক জমিতে লাউ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।
বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের হাড়িয়া গ্রামের সবজিচাষি আমিনুল ইসলাম ও শাহ নেওয়াজ জানান, স্থানীয় বাজারে সবজির ন্যায্য দাম সব সময় পাওয়া যায় না। তবে বিদেশে সবজির ভালো দাম পাওয়া যায়।
বিদেশে রপ্তানির জন্য সবজি সাপ্লাইয়ার আ. করিম ও মোতালেব মিয়া জানান, ১৫ বছর ধরে এ সবজি বিদেশে রপ্তানির কাজে তারা জড়িত।
সোনারগাঁও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনিরা আক্তার জানান, রাজধানী ঢাকা থেকে সোনারগাঁও কাছাকাছি হওয়ার কারণে সবজি রপ্তানিকারকরা সহজে সবজি সংগ্রহ করতে পারেন। তাছাড়া সোনারগাঁওয়ের সবজি পোকামুক্ত হওয়ায় খুবই প্রশংসনীয়। সবজি পোকামাকড় মুক্ত করার বিষয়ে সোনারগাঁও উপজেলা কৃষি অফিস কাজ করছে।