‘ঘরে ঘরে বিদ্যুত্ শেখ হাসিনার উদ্যোগ’ এই স্লোগানকে ধারণ করে দেশের বিভিন্ন স্থানে পল্লী বিদ্যুত্ সমিতির উদ্যোগে আলোর ফেরিওয়ালা কর্মীরা বাড়ি বাড়ি ও হাট-বাজারে গিয়ে বিদ্যুত্ সংযোগ দিচ্ছেন। ইত্তেফাক সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর:
কুমিল্লা:‘পাঁচ মিনিটে বিদ্যুত্ সংযোগ’ সরকারের এ লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য কুমিল্লার গ্রামে গ্রামে আলোর ফেরিওয়ালার যাত্রা শুরু হয়েছে। কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুত্ সমিতি-২ এর উদ্যোগে জেলার উত্তর রামপুরস্থ প্রধান কার্যালয় হতে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড কুমিল্লা অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আতাউর রহমান। কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুত্ সমিতি-২ এর ঊর্ধ্বতন মহাব্যবস্থাপক মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, এ সমিতির অধিভুক্ত এলাকায় সর্বমোট ৬ হাজার ১৯০ কিলোমিটার লাইন নির্মাণ করে বিভিন্ন শ্রেণির ৩ লাখ ৫৭ হাজার ২৬৪ জন গ্রাহককে বিদ্যুত্ সংযোগ প্রদান করা হয়েছে। একটি বাড়িও যেন বিদ্যুতের আওতার বাইরে না থাকে সেজন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
সেনবাগ (নোয়াখালী): সেনবাগ উপজেলা পল্লী বিদ্যুত্ সমিতির জোনাল অফিসের আওয়াধীন আলোর ফেরিওয়ালা কর্মীরা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বিরামহীন তাত্ক্ষণিকভাবে ফরম পূরণ করে সংযোগ দিচ্ছেন। ঝামেলাবিহীন সংযোগ পেয়ে খুশি উপজেলার পল্লী বিদ্যুত্ গ্রাহকরা। বুধবার সকালে উপজেলার বীজবাগ ইউনিয়নে মজুমদারহাট খলিল ও মিয়ারহাটে ওই সংযোগ দেয়া হয়। এর আগে শায়েস্তানগর ও আজিজপুর গ্রামের অনুরুপ সংযোগ দেয়া হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ওয়ারিং পরিদর্শক গোবিন্দ চন্দ্র দাস, লাইন টেকনিশিয়ান সামছুল আলম, লাইনম্যান গ্রেড-১ মনিরুল ইসলাম প্রমুখ।
বাঘা (রাজশাহী): নাটোর পল্লী বিদ্যুত্ সমিতি ২ এর অধীন বাঘা সাব-জোনাল অফিস বুধবার আলোর ফেরিওয়ালা কার্যক্রমের আওতায় মনিগ্রাম ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে প্রচারণা ছড়িয়ে দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন নাটোর পল্লী বিদ্যুত্ সমিত ২ এর অধীন বাঘা সাব-জোনাল অফিসের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার মো. শাহিনুর আলম মৃধা, জুনিয়ার প্রকৌশলী মো. হাবিবুর রজমান প্রমুখ।
নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া): নাসিরনগরে সাধারণ মানুষের বাড়ি বাড়ি ভ্যানে করে পল্লী বিদ্যুত্ সংযোগ ও মিটার পৌঁছে দিতে আলোর ফেরিওয়ালা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া পল্লী বিদ্যুত্ সমিতির নাসিরনগর সাব-জোনাল অফিসের উদ্যোগে বুধবার উপজেলা সদরের কুলিকুন্ডা গ্রামে এর উদ্বোধন করেন পল্লী বিদ্যুত্ সমিতির নাসিরনগর সাব-জোনাল অফিসের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (নিপুর) মো. নজরুল ইসলাম।
চৌহালী (সিরাজগঞ্জ): এনায়েতপুরে বিদ্যুত্ বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভ্যানে করে তার, মিটার নিয়ে ফেরিওয়ালার বেশে প্রচারণা চালানো হচ্ছে বিদ্যুত্ সংযোগ দেয়ার। এনায়েতপুরের সৈয়দপুর গ্রামের বাসিন্ধা রামপদ মিস্ত্রী জানান, অফিসে ম্যালা বার যায়া ধর্না ধইরা ক্যারেন পাই না, আর এহন বাড়ি বাই ঘোরে দিবার নিগা। এখন কি যুগ আইলোরে ভাই। এবা ওইলে তো দেশে আর সরকারি অফিসে ওয়রানী-দুর্নীতি থ্যাকবোনা।
মঙ্গলবার সিরাজগঞ্জ পল্লী বিদ্যুত্ সমিতির-১ এর আওতাধীন এনায়েতপুরের আওতাধীন খুকনী সাব-জোনাল অফিসের কর্মকর্তা মীর নুর মোহাম্মদের উদ্যোগে বাড়ি বাড়ি ফেরি করে বিদ্যুত্ বিতরণ চলাকালে রুপসী, গোপিনাথপুর, শীবপুর ও সৈয়দপুর জুড়ে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করে। এ সময় সৈয়দপুর গ্রামের ১৩টি বাড়িতে দেয়া হয় বিদ্যুত্।
বেড়া (পাবনা): গ্রাহক বিদ্যুত্ অফিসের দ্বারপ্রান্তে না গিয়েই বিদ্যুত্ সংযোগ পেয়ে যাচ্ছেন। পাবনা পল্লী বিদ্যুত্ কার্যক্রম ২ এর আওতায় বেড়ায় অটোরিকশা ভ্যানে আলোর ফেরিওয়ালা ব্যানার ও বিদ্যুত্ সংযোগের প্রয়োজনীয় উপকরণ নিয়ে গ্রাহকের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যাচ্ছে। আলোর ফেরিওয়ালারা জানান, সবকিছু ঠিক থাকলে মাত্র পাঁচ মিনিটের মধ্যেই বিদ্যুত্ সংযোগ দেয়া হচ্ছে।
ভাঙ্গুড়া (পাবনা):ভাঙ্গুড়া উপজেলার গ্রামে গ্রামে ফেরি করে বিদ্যুত্ সংযোগ দিচ্ছে পাবনা পল্লী বিদ্যুত্ সমিতি-১ এর ভাঙ্গুড়া সাব-জোনাল অফিস। ‘বিদ্যুত্ লাগবে-বিদ্যুত্’ এভাবেই আলোর ফেরিওয়ালা সেজে গ্রামে গ্রামে মানুষের বাড়ি গিয়ে সংযোগ দিচ্ছে। ব্যতিক্রমী এ উদ্যোগের মাধ্যমে ২০ থেকে ৩০ মিনিটের মধ্যে একজন সাধারণ গ্রাহক বিদ্যুত্ সংযোগ পাচ্ছেন। পল্লী বিদ্যুত্ সমিতির অভিনব আলোর ফেরিওয়ালা কর্মসূচি এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। এর আওতায় পল্লী বিদ্যুত্ সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অটোভ্যানযোগে মিটার, তার ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিয়ে ভ্যানের সামনে আলোর ফেরিওয়ালা ব্যানার লাগিয়ে গ্রামে গ্রামে ঘুরছেন।
ভাঙ্গুড়া সাব-জোনাল অফিসের এ জি এম শয়ম কৃষ্ণ রায় জানান, বিদ্যুত্ সুবিধা অতি সহজে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে অভিনব কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। অফিসে কোনো গ্রাহককে আর ঘুরতে হবে না। মিটারের জন্য কাউকে অপেক্ষাও করতে হবে না। শুধুমাত্র ওয়ারিং থাকলেই আলোর ফেরিওয়ালা গ্রাহককে সংযোগ প্রদান করবে।
চারঘাট (রাজশাহী):ভ্যানে বিদ্যুত্ সংযোগের সরঞ্জাম নিয়ে চারঘাটে বাড়িতে বাড়িতে হাজির হচ্ছে আলোর ফেরিওয়ালা। গ্রাহকের আবেদন পাওয়া মাত্র ফি নিয়ে সংযোগ দিচ্ছেন বিদ্যুত্ বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এ যেন এক স্বপ্ন, যা মানুষ আগে কখনও ভাবেনি। এক সময়ের সোনার হরিণ বিদ্যুত্ বাড়িতে এসে দিয়ে যাবে মাত্র ৫ মিনিটে। নাটোর পল্লী বিদ্যুত্ সমিতির-২ এর উদ্যোগে চারঘাট উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে বেড়াচ্ছে আলোর ফেরিওয়ালা ভ্যান।
ঝিকরা গ্রামের নতুন বিদ্যুত্ সংযোগ পাওয়া গ্রাহক নিতাই সাহা বলেন, আজ আমি নতুন বিদ্যুত্ লাইন পাইছি, আমার ফটো ও কাগজ দিতে কিছু সময় দেরি হইছে কিন্তু বিদ্যুত্ লাইন পাইতে মাত্র পাঁচ মিনিট সময় লাগছে।
চারঘাট জোনাল অফিসের ডিজিএম মুক্তার হোসেন জানান, প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগ ঘরে ঘরে বিদ্যুত্ এই প্রতিপাদ্যকে বাস্তবায়ন করতে একেবারে তৃণমূল পর্যায়ে বিদ্যুত্ সংযোগ পৌঁছে দিতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যদিও চারঘাটে শতভাগ বিদ্যুত্ সম্পন্ন হয়েছে। ভবিষ্যতেও এই আলোর ফেরিওয়ালার কার্যক্রম চলমান থাকবে।
গৌরনদী (বরিশাল):‘ঘরে ঘরে বিদ্যুত্ পৌঁছে দেয়া’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অঙ্গীকার বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন বরিশাল পল্লী বিদ্যুত্ সমিতি-২ এর ব্যবস্থাপনা বিভাগের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
শতভাগ বিদ্যুতায়নে সরকারের প্রতিশ্রুতি রক্ষায় বরিশাল পল্লী বিদ্যুত্ সমিতি-২ এর আওতাভুক্ত গৌরনদী-বানারীপাড়া, বাবুগঞ্জ, উজিরপুর ও আগৈলঝাড়া উপজেলায় গত কয়েকদিন ধরে ফেরি করে পল্লী বিদ্যুতের সংযোগ দেওয়া হচ্ছে। বরিশাল পল্লীবিদ্যুত্ সমিতি-২ এর এজিএম আবুল বাশার আজাদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা অনুযায়ী ঘরে ঘরে বিদ্যুত্ পৌঁছে দেয়ার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে পাঁচটি উপজেলায় ফেরি করে পল্লী বিদ্যুতের সংযোগ দেওয়া হচ্ছে। বিদ্যুত্ কর্মীরা শতভাগ বিদ্যুতায়নের জন্য ভ্যানযোগে ফেরি করে ঘরে ঘরে মিটারসহ নতুন সংযোগ দিচ্ছেন।
বরিশাল পল্লী বিদ্যুত্ সমিতি-২ এর আওতাধীন এলাকায় গত ৬ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এ প্রকল্পের আওতায় ১০টি দল একযোগে কাজ করে যাচ্ছেন। গ্রাহকরা নিয়মানুযায়ী আবেদন ফি-১০০ টাকা, ভ্যাট-১৫ টাকা, মিটার জামানত-৪০০ টাকা ও সদস্য ফি-৫০ টাকাসহ মোট ৫৬৫ টাকা প্রদান করলেই ঘরে বসে মিটারসহ বিদ্যুত্ সংযোগ পাচ্ছেন।