এমন হার চিন্তাই করেননি প্রধান নির্বাচক

ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে টেস্ট সিরিজ হারের হতাশায় কাতর বাংলাদেশের ক্রিকেটাঙ্গন। সিরিজ জয়ের আশা বিভোর থাকা বাংলাদেশ দলকে হজম করতে হয়েছে কঠিন বাস্তবতা। চট্টগ্রামের পর ঢাকা টেস্টেও ক্যারিবিয়ানদের দাপটের সামনে আত্মসমর্পণ করেছিল মুমিনুল হকের দল।

সোমবার ভীষন্নতায় আচ্ছন্ন জাতীয় দলের প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু বলেছেন, ‘এমন হার কল্পনাই করেননি। অভিজ্ঞ ও তরুণ কয়েকজন ব্যাটসম্যানের ব্যাটিং দেখে হতাশ তিনি। তবে এ ফরম্যাটে উন্নতি করতে হলে প্রচুর ম্যাচ খেলা এবং ভিন্ন ভিন্ন উইকেট তৈরির বিকল্প দেখছেন না নান্নু।’ 

চট্টগ্রামে চারদিন দাপট দেখিয়েছিল বাংলাদেশ। পঞ্চম দিনে মেয়ার্স-বনারের ব্যাটে পিষ্ট হয় স্বাগতিকরা। অনেক পরিকল্পনা, মিটিং, দলে পরিবর্তনের পরও রেজাল্ট আসেনি ঢাকায়। সিরিজে সমতা ফেরানোর সুতীব্র চেষ্টায় বিফল হয়েছে। কর্নওয়ালের ঘূর্ণির সামনে পথ হারিয়ে মিরপুরে ম্যাচের চতুর্থ দিনেই হেরে গেছে বাংলাদেশ।

সিরিজের মূল্যায়ন করতে গিয়ে প্রধান নির্বাচক বলেছেন, ‘আমরা পিছিয়ে ছিলাম অনেক ক্ষেত্রে। কিন্তু ঢাকা টেস্টে আমাদের জেতা উচিত ছিল। ২৩১ রানের টার্গেটে অবশ্যই জেতা উচিত ছিল। আমরা ভালো ব্যাটিং করিনি।’

ক্যারিবিয়ানদের দলটা পূর্ণ শক্তির ছিল না। তাদের কাছে দুই ম্যাচই হেরে যাবে বাংলাদেশ, খোদ প্রধান নির্বাচকই ভাবেননি। নান্নু বলেছেন, ‘অবশ্যই খুব হতাশার। হোম কন্ডিশনে এই দলের সঙ্গে ২-০ তে হারবো, এটা তো চিন্তাই করিনি।’

বয়সভিত্তিক পর্যায় থেকে শুরু করে দেশের ক্রিকেট কাঠামোর প্রতি ধাপেই যত্ন করে গড়ে তোলা হয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তকে। তার প্রতি অনেক আশা নির্বাচক, টিম ম্যানেজমেন্টের। সাকিবকে সরিয়ে তাকে তিন নম্বরে ব্যাটিংয়ের সুযোগ দেয়া হয়েছে। এ তরুণ আস্থার প্রতিদান দিতে পারলেন কই? গোটা সিরিজে দুই ফরম্যাটে সাত ইনিংসে সাকুল্যে ৭৭ রান করেছেন তিনি। 

শান্তকে নিয়ে ভিন্ন চিন্তার ইঙ্গিত মিলল নান্নুর কথায়। তিনি বলেছেন, ‘ঘরোয়া ক্রিকেটের ধারাবাহিক পারফর্মার। প্রতিভা আছে। এখন আন্তর্জাতিকে এটা করতে না পারলে আমাদের অন্য চিন্তা করতে হবে। আর এভাবে আগানো যায় না।’

সিরিজ হারলেও উইন্ডিজদের টেস্ট সংস্কৃতি, খেলোয়াড়দের দক্ষতাকে সম্মান জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচক। টেস্টে উন্নতি ও ক্রিকেটারদের গড়ে তোলার জন্য প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে নজর দিতে বলেছেন নান্নু। তিনি বলেন, ‘দেখেন, বেশি বেশি লংগার ভার্সন খেলার বিকল্প নেই। দুই ধরনের উইকেট আমাদেরকে প্রস্তুত করতে হবে। একটা বাউন্সি, সবুজ উইকেট। আরেকটা স্পিনিং উইকেট। একই ধরনের স্পিনিং, ফ্লাট উইকেটে খেলে সবসময় রেজাল্ট আসবে না। এখানে নজর দিতেই হবে।’

ইত্তেফাক/এসআই