গোল বিতর্কে ভেঙে দেওয়া হলো বাফুফের রেফারি কমিটি

ফুটবল মাঠে খেলা পরিচালনায় বিতর্কের জের ধরে রেফরীজ কমিটি ভেঙে দিয়েছে বাফুফে। বুধবার দুপুরে বাফুফে ভবনে গিয়েই বাফুফের সভাপতি কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়ে জানিয়ে দিয়েছেন। রেফারীজ কমিটির নতুন প্রধান হচ্ছেন প্রিমিয়ার লিগ কমিটির চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম মুর্শেদী।

৮ সদস্যের নতুন কমিটিতে অন্যরা হলেন বাফুফের সহসভাপতি কাজী নাবিল আহমেদ, আবদুর রহিম, গত মৌসুমে রেফারীজ কমিটির চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন, বাফুফের সদস্য ইলিয়াস হোসেন, আছেন ভেঙে দেয়া কমিটির ইব্রাহিম নেসার, আর আলম, তৈয়ব হাসান বাবু এবং শহিদুল ইসলাম লালু।  

রেফারীজ কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন বাফুফের সদস্য জাকির হোসেন চৌধুরী। তার কমিটি এবারের ফুটবলে নানা ভাবে বিতর্ক ছড়িয়েছে। রেফারিদের খেলা পরিচালনায় কিছু কিছু সিদ্ধান্ত ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়েছে।  শেখ জামাল-বসুন্ধরা কিংসের ম্যাচে শেখ জামালের গোল বাতিল করেছিলেন রেফারী জালাল উদ্দিন। তার আগেও রেফারীর বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে ফুটবলে বিতর্ক হলেও বসুন্ধরা-শেখ জামালের ম্যাচে বাতিল হওয়া গোল নিয়ে ফিফার দরজা পর্যন্ত গিয়েছে বাফুফে।

ফিফার কাছে পাঠানো হয়েছে ভিডিও ফুটেজ। ফিফা কোনো সিদ্ধান্ত দেবে না। মতামত দেবে কিনা তা নিয়েও আশংকা রয়েছে। বাফুফের সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিন জানিয়েছিলেন তারা ফিফার কাছ থেকে মতামত জানতে চান। তার আগেই রেফারীজ কমিটি ভেঙ্গে দিলেন সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিন। 

রেফারিদের সিদ্ধান্ত বিতর্কমুক্ত করতে বাফুফে সভাপতি ঘোষণা দিয়েছিলেন ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) প্রযুক্তি শুরু করা যায় কিনা। গতকাল বাফুফে ফিফার সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্স করে ভিএআর নিয়ে কথা বলেছে। ফিফার বিশেষজ্ঞ চার জন বাফুফের চারজনের সঙ্গে ভার্চুয়াল মিটিং করে। ভিএআর প্রযুক্তি চালু করতে হলে বড় অংকের অর্থের খরচা করতে হবে।

ফিফার ভিএআর বিশেষজ্ঞরা নির্দিষ্ট করে বলতে পারেনি কত টাকা খরচ হবে। এটা হতে পারে আড়াই কোটি টাকা, হতে পারে সঙ্গে পাঁচ কোটি টাকা। সংশ্লিষ্ট একজন জানিয়েছেন ইউরোপে কোথাও একটা বার্গার খেতে ৫ ইউরো দিতে হয়, বাংলাদেশে ৫০ টাকায়ও বার্গার পাওয়া যায়। ভিএআর প্রযুক্তি স্থাপনের বিষয়টা এরকমই। নির্ভর করে অনেকগুলো বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। ফিফা হতে টেকনিশিয়ান আসবে, এখানে প্রশিক্ষন দিতে হবে, আরো কিছু বিষয় আছে। বাফুফে জানতে চেয়েছিল ভিএআর প্রযুক্তি চালু করতে ফিফার কাছে ফান্ড পাওয়া যাবে কিনা। ফিফায় ফরোয়ার্ড প্রোগ্রাম আছে। সেটার মাধ্যমেও চেষ্টা চলবে সঙ্গে সঙ্গে বাফুফেও নিজ অর্থায়নে ভিএআর আনার উদ্যোগ নেবে।

ইত্তেফাক/এসআই