ইত্তেফাক ডেস্ক
৪৭ লাখ টাকা আত্মসাতের দায়ে দুদকের মামলায় সোনালী ব্যাংক গোপালগঞ্জ শাখার ৮ কর্মকর্তাকে যাবজ্জীবনসহ বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়েছে আদালত। গতকাল বুধবার দুপুরে ফরিদপুরের বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মোঃ মতিয়ার রহমান এ রায় দেন। এদিকে ঘুষের টাকা লেনদেনের সময় দুদকের পাতা ফাঁদে ১০ হাজার টাকাসহ ধরা পড়েছেন কিশোরগঞ্জ সদর সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের সার্ভেয়ার গিয়াসউদ্দিন। তাকে থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।
ফরিদপুর প্রতিনিধি জানান, অর্থ আত্মসাতের দায়ে সাজাপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা হলেন: সোনালী ব্যাংক গোপালগঞ্জ শাখার সাবেক অফিসার ক্যাশ অমল চন্দ্র বিশ্বাস, এম এইচ সিদ্দিকুর রহমান, মোঃ মুনছুরুল হক, মোশাররফ হোসেন মোল্লা, গোলাম মোহাম্মদ মুন্সী ও দিলীপ কুমার মন্ডল এবং সাবেক হেড ক্যাশ কর্মকর্তা ইউসুফ আলী খন্দকার ও শওকত হোসেন মোল্লা। এদের মধ্যে শওকত হোসেন মোল্লাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও আত্মসাত্কৃত টাকার সমপরিমাণ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ১৭ বছর কারাদণ্ড এবং পঞ্চাশ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরো ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছে আদালত। বাকি ৭ জনের প্রত্যেককে ১৮ বছর সশ্রম কারাদণ্ড, একই সঙ্গে ৯০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরো ১ বছর করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। রায় ঘোষণার সময় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি শওকত হোসেন মোল্লা ছাড়া বাকিরা উপস্থিত ছিলেন। রায়ের পর তাদের ফরিদপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
ফরিদপুর বিশেষ জজ আদালতের দুদক পিপি মজিবুর রহমান জানান, সোনালী ব্যাংক গোপালগঞ্জ শাখার পেনশন হোল্ডার ও ভুয়া পেনশন হোল্ডারদের নাম দেখিয়ে ৪৭ লাখ ২ হাজার ৬২৮ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০০৩ সালের ৮ ডিসেম্বর ওই শাখার ব্যবস্থাপক আব্দুস সোবহান বাদী হয়ে ব্যাংকটির ১০ কর্মকর্তার নামে মামলা করেন। এদের মধ্যে দুইজন মামলা চলাকালীন সময়ে মারা যান। মামলাটি তদন্ত করেছেন ফরিদপুর দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আবুল বাশার।
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, ঘুষের টাকাসহ আটক ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার গিয়াসউদ্দিনের বাড়ি জেলার তাড়াইল উপজেলার দিগদাইর গ্রামে। আগামী ৩১ জানুয়ারি তার অবসরে (এলপিআর) যাওয়ার দিন ধার্য ছিল।
দুদক সূত্র জানায়, শহরের ইটালী ভবনের মালিক এম এ হাকিম শাহ ক্রয়সূত্রে মালিকানাপ্রাপ্ত ২২ শতাংশ ভূমির মূল মালিকের নাম ভুল হওয়ায় তা সংশোধনের জন্য সদর ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার গিয়াসউদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সার্ভেয়ার কাজটি সম্পাদনের জন্য ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। পরে ১০ হাজার টাকায় রফা হয়। এই অভিযোগ দুর্নীতি দমন কমিশন ময়মনসিংহ জেলা সমন্বিত কার্যালয়ে লিখিতভাবে জানানো হয়। গতকাল সকাল দশটায় এম এ হাকিম শাহ দুদকের ইনভেন্ট্রি করা ১০ হাজার টাকা নিয়ে ওই কার্যালয়ে যান। এর আগেই দুদক ময়মনসিংহ জেলা সমন্বিত কার্যালয়ের পরিচালক মোঃ কামরুল আহসানের নেতৃত্বে একটি টিম সেখানে অবস্থান নেয়। পরে ঘুষের টাকা লেনদেনের সময় গিয়াসউদ্দিনকে হাতে-নাতে আটক করা হয়।
এ ঘটনায় দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক সাধন চন্দ্র সূত্রধর বাদী হয়ে কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় একটি মামলা করেছেন। পরিচালক মোঃ কামরুল আহসান জানান, আসামিকে থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।