কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক হলেন প্রিয়াংকা গান্ধী

ভারতের প্রাচীনতম দল কংগ্রেসের সাধারণ পদে নাম লেখালেন প্রিয়াংকা গান্ধী ভদ্র। এর মাধ্যমে তিনি রাজনীতিতে প্রবেশ করলেন। ভারতে আগামী লোকসভা নির্বাচনের কয়েক মাস আগে প্রিয়াংকা গান্ধীর রাজনীতিতে অভিষেক ঘটলো। এপ্রিল-মে মাসে লোকসভা নির্বাচন হতে পারে। বিজেপি বলছে, এর মাধ্যমে রাহুল গান্ধী যে ব্যর্থ তাই প্রমাণ করলো।

গতকাল কংগ্রেসের এক প্রেস বিবৃতিতে প্রিয়াংকা গান্ধীকে রাজনীতিতে আনার ঘোষনা দেওয়া হয়। প্রিয়াংকা গান্ধী ভারতের জনবহুল রাজ্য উত্তরপ্রদেশের পূর্বাঞ্চলের দায়িত্ব পালন করবেন। তাকে প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে লড়াই করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী মোদী বেনারসের আসনে প্রার্থী হন। লোকসভায় গতকাল উত্তরপ্রদেশের পশ্চিমাঞ্চলের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়াকে। কংগ্রেস প্রেসিডেন্ট রাহুল গান্ধী বলেছেন, আমি প্রিয়াংকা এবং জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়াকে কেবল দুই মাসের জন্য সেখানে পাঠাচ্ছি না, উত্তরপ্রদেশের কংগ্রেসের আদর্শকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতেই তাদের পাঠানো হচ্ছে।

৪৭ বছর বয়সী প্রিয়াংকা গান্ধীর মধ্যে অনেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও তার দাদী ইন্দিরা গান্ধীর ছায়া দেখতে পান। তার ক্যারিশমা রাজনীতিতে কাজে লাগাতে অনেকদিন ধরেই তাকে দলের পদ দিতে কংগ্রেস কর্মী-সমর্থকরা দাবি করেছিলেন। কিন্তু তিনি কেবল তার মা এবং ভাইয়ের আসনেই নির্বাচনে প্রচারণা চালানোর মধ্যে নিজেকে সীমাবদ্ধ রেখেছিলেন। সূত্র জানায়, প্রিয়াংকা রাজনীতিতে নিয়ে আসার মূল উদ্দেশ্য প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং বিজেপিকে ঘায়েল করা। প্রিয়াংকা বর্তমানে নিউ ইয়র্কে আছেন। আগামী পহেলা ফেব্রুয়ারি তিনি দেশে ফিরবেন বলে আশা করা হচ্ছে। কংগ্রেস নেতারা বলছেন, প্রিয়াংকার রাজনীতিতে প্রবেশ দলকে আরো শক্তিশালী করবে। মায়াবতী-অখিলেশ যাদব যখন কংগ্রেসকে বাদ দিয়ে জোট করার চেষ্টা করছে তখনই প্রিয়াংকার রাজনীতিতে অভিষেক ঘটলো। এই জোট বিজেপির জন্যও চ্যালেঞ্জ। রবার্ট ভদ্র স্ত্রী প্রিয়াংকা গান্ধীকে অভিনন্দন জানিয়ে পাশে থাকার কথা বলেছেন। বিজেপির মুখপাত্র সম্বিতা পত্র বলেন, প্রিয়াংকা গান্ধীকে সাধারণ সম্পাদক পদ দেওয়ায় প্রমানিত হলো যে রাহুল গান্ধী ব্যর্থ। আর দলটি পরিবারের বাইরেও যেতে পারলো না।