বগুড়ার শেরপুরের বাগড়া কলোনি এলাকায় স্বামী ও শাশুড়ির নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে শামীম হোসেন বাবু (১) নামে শিশুকে বিষ খাইয়ে হত্যার পর মা শান্তা বেগম (১৯) বিষপানে আত্মহত্যা করেছেন। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে শেরপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
জানা গেছে, শেরপুর উপজেলার কুসুম্বি ইউনিয়নের বাগড়া কলোনি এলাকার আবু তালেবের ছেলে মামুনুর রশীদের সঙ্গে গত ৩ বছর আগে পাশের খানপুর ইউনিয়নের বড়ইতলী গ্রামের সানাউল্লাহ প্রামাণিকের মেয়ে সামছুন্নাহার শান্তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর স্বামী ও শাশুড়ির পছন্দ না হওয়ায় কারনে-অকারনে শান্তাকে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করে আসছিল এবং টাকা চাইতো। গত বৃহস্পতিবার সকালে শাশুড়ি মাসেদা বেগম তুচ্ছ বিষয় নিয়ে শান্তা বেগমের সাথে ঝগড়া করে। এর একপর্যায় শাশুড়ি তাকে মারধর করে। এই অপমান সহ্য করতে না পেরে বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াই টার দিকে বাড়ি থেকে কোয়াটার কিলোমিটার উত্তরে বাগড়া কলোনি দাখিল মাদ্রাসার সামনে প্রথমে ১৪ মাস বয়সের একমাত্র ছেলে শামীম হোসেন বাবুকে গ্যাস ট্যাবলেট (বিষ) খাওয়ায় পরে নিজেও গ্যাস ট্যাবলেট (বিষ) খেয়ে গুরুত্বর অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে স্থানীয় লোকজন টের পেয়ে বিকাল ৩ টার দিকে তাদের উদ্ধার করে শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাদের বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে নেওয়ার পর বিকেল সাড়ে ৪ টার দিকে মা ও ছেলে মারা যান।
এ ঘটনায় শান্তার পিতা সানাউল্লাহ প্রামাণিক বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার রাতে শেরপুর থানায় মামুনুর রশীদ ও মাসেদা বেগমের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
এ ব্যাপারে শেরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. হুমায়ুন কবীর বলেন, এ বিষয় থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে। আসামিদের আটক করার চেষ্টা চলছে।
ইত্তেফাক/বিএএফ