প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের নতুন সরকার দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। একইসঙ্গে নতুন সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরো জোরদারে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। যুক্তরাষ্ট্র সফররত পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক মঙ্গলবার ওয়াশিংটন ডিসিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠককালে বাংলাদেশ সরকারের এই অবস্থানের কথা তুলে ধরেন। মার্কিন কর্মকর্তারা দুর্নীতি নির্মূল, সন্ত্রাস দমন এবং মানব পাচার বন্ধে বাংলাদেশের নতুন সরকারের প্রতিশ্রুতি এবং বিভিন্ন পদক্ষেপের প্রশংসা করেছেন। তবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ওঠা বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগের ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে তারা।
ওয়াশিংটন ডিসিস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পররাষ্ট্র সচিব ওয়াশিংটন ডিসিতে ইউএসএইড প্রশাসক মার্ক গ্রিন এবং যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি বিষয়ক মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড্যাভিড হ্যালের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন। বৈঠকে তারা অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। বৈঠকে শহীদুল হক বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু এবং উন্নয়ন অংশীদার। বর্তমান সরকার বিভিন্ন ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক আরো জোরদার করতে চায়। যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হলে বাংলাদেশ খুশি হবে এবং তাদের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগ করার সুযোগ দেবে। তিনি রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা কামনা করে বলেন, বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদেরকে নিজ দেশে নিরাপদে ফিরে যাওয়া প্রত্যাশা করে। তিনি বলেন, উত্তর রাখাইনের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি রোহিঙ্গা সংকটকে আরো প্রলম্বিত করছে। রোহিঙ্গারা যাতে স্বেচ্ছায় ফিরে যায় সে পরিবেশ তৈরির দায়িত্ব মিয়ানমারের।
মার্কিন কর্মকর্তারা বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন। তারা বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার বর্ণনা করে বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানে বাংলাদেশের প্রতি তাদের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে।
পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক মুখ্য উপ-সহকারী মন্ত্রী রাষ্ট্রদূত অ্যালিস ওয়েলস, ডেমোক্রেসি ব্যুরো, অধিকার ও শ্রম দফতর প্রধান রাষ্ট্রদূত মাইকেল কোজাক, জনসংখ্যা, উদ্বস্তু এবং অভিবাসন ব্যুরোর ভারপ্রাপ্ত সহকারী মন্ত্রী ক্যারোল থোমাস ও কোনেল, মানব পাচার দফতর প্রধান অ্যাম্বাসেডর এট লার্জ জন কটন রিসমন্ড এবং কাউন্টারটেরোরিজম ব্যুরো ও কাউন্টারটেরোরিজম কো-অর্ডিনেটর অ্যাম্বাসেডর এট লার্জ নাথান স্যালেসের সঙ্গেও পৃথক বৈঠক করেন। যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন।
এদিকে মার্কিন উন্নয়ন সংস্থা ইউএসএইড এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, সংস্থাটির প্রশাসক মার্ক গ্রীন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক নির্বাচনে হয়রানি, ভীতি প্রদর্শন, সহিংসতাসহ বিভিন্ন অনিয়মের বিশ্বাসযোগ্য রিপোর্টের ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে ও বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে বাংলাদেশের যে আকাঙ্ক্ষা রয়েছে তা অর্জনে নাগরিকদের জন্য দায়িত্বশীল সরকার ব্যবস্থা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা ও শক্তিশালী গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান জরুরি। যা ব্যবসার জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারবে। একইসঙ্গে বৈঠকে ইউএসএইড প্রশাসক তাদের কর্মী জুলহাস মান্নানের হত্যাকারীদের বিচারের মুখোমুখি করতে সরকারকে সব ধরনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।