চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি নির্বাচন আজ

চলচ্চিত্রে নিয়মিত হবার আশ্বাস প্রার্থীদের

আমাদের আসল কাজই তো পরিচালনা করা। কিন্তু লগ্নি করবে কে! প্রজোকরা এখন টাকা লগ্নি করতে ভয় পায়। কারণ, সিনেমায় টাকা খরচ করলে সেটা আর ফেরত আসে না।

 

 

— মুশফিকুর রহমান গুলজার

 

নতুন মেয়াদে আমরা তিনটি বিষয়ের উপর জোর দিচ্ছি। বিষয়গুলো বাস্তবায়ন হলে সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির পাশাপাশি আমাদের সদস্যদেরও উন্নয়ন ঘটবে।

 

 

— বদিউল আলম খোকন

 

২০০৮ সালে আমার সর্বশেষ সিনেমা মুক্তি পেয়েছিলো। এরপর ব্যবসায়িক কারণে কাজ থেকে দূরে ছিলাম। আবার আমি আগের মতো কাজ শুরু করবো।

 

 

— বাদল খন্দকার

ঢাকাই সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির সবার মধ্যে সম্প্রীতির অভাব রয়েছে। আমি জয়ী হলে প্রথমেই আমার কাজ থাকবে সবার মধ্যে দ্বন্দ্ব দূর করে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করা।

 

 

— বজলুর রাশেদ চৌধুরী

 

 

বিএফডিসিতে পরিচালক সমিতির নির্বাচন আজ। দুই প্যানেলে লড়ছেন ৩৮জন প্রার্থী। প্যানেলের বাইরে মহাসচিব পদে সাফিউদ্দিন সাফি নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। ৩৮৫জন ভোটার নির্বাচন করবেন আগামী দুবছর সংগঠনের নেতৃত্ব দেবেন কারা। নির্বাচনে অংশ নেয়া দুই পরিষদই (গুলজার-খোকন ও বাদল-বজলুর) বিজয় নিয়ে বেশ আশাবাদী। সেই সাথে জানালেন নিজেদের প্রতিশ্রুতিও। কিন্তু নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির কথা উঠলেই চোখে পড়ে বাস্তব কর্মচিত্র! বিগত দিনগুলো কে কী করেছেন, সেই কাজগুলোও চোখের সামনে আসে।

মুশফিকুর রহমান গুলজার-বদিউল আলম খোকন গত দুবছরে সমিতির নেতৃত্বে ছিলেন। এই দুবছরে তাদের সবচেয়ে বড় ও আলোচিত উদ্যোগ ছিলো- নতুন মুখের সন্ধানে। কিন্তু সেই প্রতিযোগীতা এখনো আলোর মুখ দেখেনি। তবে আয়োজনে ব্যর্থতা মানতে নারাজ তারা! মুশফিকুর রহমান গুলজার বলেন, ‘এটা নিয়ে আমাদের অনেক বড় পরিকল্পনা ছিলো। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিভিন্ন কারণে এটা শুরু করা সম্ভব হয়নি। কিন্তু কাজ থমকে নেই এখনো। কাজ চলছে। আমরা আরো ছয়মাস আগে শুরু করতে পারতাম, কিন্তু ইভেন্ট মেনেজম্যান্টের দূর্বলতার কারণে তা হয়ে ওঠেনি। এছাড়া স্পন্সর নিয়ে সমস্যা ছিলো। এবার আমরা প্রস্তুত, আবার নির্বাচিত হলে এটা জমকালোভাবে আয়োজন করবো।’

২০১৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে যৌথ প্রযোজনার নামে যৌথ প্রতারণার অভিযোগ এনে চলচ্চিত্র পরিবারের ব্যানারে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছিলো চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি। সেদিক থেকে নিজেদের বেশ সফল মনে করে তারা। কিন্তু যারা চলতি কমিটিতে আছেন তারা পরিচালক হিসেবে গত দুবছরে সফল নয়! হাতেগোনা কয়েকজন নির্মাণ করেছেন চলচ্চিত্র। এই প্রসঙ্গে মুশফিকুর রহমান গুলজার বলেন, ‘আমাদের আসল কাজই তো পরিচালনা করা। কিন্তু লগ্নি করবে কে! প্রজোকরা এখন টাকা লগ্নি করতে ভয় পায়। কারণ, সিনেমায় টাকা খরচ করলে সেটা আর ফেরত আসে না। আমাদের হলেই সমস্যা।’

প্রেক্ষাগৃহ উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি নিয়েই নির্বাচন করছেন গুলজার-খোকন পরিষদ। বদিউল আলম খোকন বলেন, ‘নতুন মেয়াদে আমরা তিনটি বিষয়ের উপর জোর দিচ্ছি। সরকারি খরচে সারাদেশে যেন সিনেপ্লেক্স নির্মাণ করা হয়। প্রথমে ৬৪ জেলায় ও পরবর্তীতে তিনশটি উপজেলায়। এরপর সেন্ট্রাল সার্ভারের মাধ্যমে সিনেমা প্রদর্শন ও ই-টিকিটিং চালু। এই বিষয়গুলো বাস্তবায়ন হলে সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির পাশাপাশি আমাদের সদস্যদেরও উন্নয়ন ঘটবে।

বাদল-বজলুর পরিষদের বেশির ভাগ প্রার্থীই চলচ্চিত্র নির্মাণ করেননি বেশ কয়েক বছর ধরে। কিন্তু তারা এই নির্বাচনকে ঘিরে সরব। তাদের আশা, তারা নির্বাচিত হলে পরিচালক সমিতিতে শান্তি ফিরে আসবে! কারো মধ্যে কোনো দন্দ্ব থাকবে না।

কিন্তু চলচ্চিত্রে উন্নয়নে কি প্রদক্ষেপ নিবেন? এই প্রশ্নের জবাবে বাদল খন্দকার বলেন, ‘আমাদের একটাই পরিচয়, আমরা চলচ্চিত্র পরিচালক। ২০০৮ সালে আমার সর্বশেষ সিনেমা ‘বিদ্রোহী পদ্মা’ মুক্তি পেয়েছিলো। এরপর ব্যবসায়িক কারণে পরিচালনা থেকে দূরে ছিলাম। আবার আমি আগের মতো কাজ শুরু করবো। আমরা যদি সবাই নিয়মিত চলচ্চিত্র নির্মাণ শুরু করি, তাহলে ইন্ডাস্ট্রি এগিয়ে যাবে। মূলত ইন্ডাস্ট্রির উন্নয়নের পাশাপাশি পরিচালকদের উন্নয়ন করাই লক্ষ্য নিয়েই আমার আসা।

নিজের প্যানেলের প্রতিশ্রুতি নিয়ে বজলুর রাশেদ চৌধুরী বলেন, ঢাকাই সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির সবার মধ্যে সম্প্রীতির অভাব রয়েছে। একটা পরিবার তখনই এগিয়ে যায়, যখন সবার মধ্যে একত্বতা থাকে। সব দ্বন্দ্ব দূর করে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। আমি জয়ী হলে প্রথমেই আমার কাজ থাকবে সবার মধ্যে দ্বন্দ্ব দূর করে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করা।

বিষয়টি এত সহজ না, তবে এটা চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে কাজ করতে চাই। আজকের ভোটে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন আব্দুল লতিফ বাচ্চু। কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন শফিকুর রহমান ও বিএইচ নিশান। এছাড়া আপিল বিভাগের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন অভিনেতা সৈয়দ হাসান ইমাম। এ বোর্ডের সদস্য হয়েছেন আবু মুসা দেবু ও আজিজুর রহমান।