আহমেদাবাদের মোতেরায় বিশ্বের সর্ববৃহৎ ক্রিকেট স্টেডিয়ামের উইকেট যেন ব্যাটসম্যানদের জন্য মৃত্যুকূপ হয়ে ধরা দিয়েছিল। হন্তারকের আসনে শুধু স্পিনাররা। গোলাপি বলে ইংল্যান্ডকে ঘূর্ণি জাদুতে নাকাল করে মাত্র দুই দিনেই টেস্ট জিতে নিয়েছে স্বাগতিকরা। বৃহস্পতিবার সিরিজের তৃতীয় টেস্টে জো রুটের দলকে ১০ উইকেটে হারিয়েছে ভারত। সিরিজে ২-১ এ এগিয়ে গেল কোহলির দল।
ম্যাচের প্রথম দিনেই নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামের উইকেটের স্পিন-সখ্য স্পষ্ট হয়ে যায়। প্রথম দিনে পড়েছিল ১৩ উইকেট। স্পিনারদের রাজত্বের উইকেটে গতকাল দ্বিতীয় দিনে ১৭ উইকেট পড়েছে। তাতেই পাঁচ দিনের ম্যাচটা কার্যত পৌনে দুই দিনে শেষ হয়ে গেছে।
দিবারাত্রি টেস্টের শুরুতে ১১২ রানে গুটিয়ে যায় ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংস। ৩ উইকেটে ৯৯ রান নিয়ে দিনটা শেষ করলেও গতকাল দ্বিতীয় দিনে ব্যাটিংয়ে নেমেই বিপর্যয়ে পড়ে ভারত। রোহিত শর্মার হাফ সেঞ্চুরির পরও প্রথম ইনিংসে ১৪৫ রানে অলআউট হয় তারা। রোহিত ৬৬, অশ্বিন ১৭, ইশান্ত শর্মা অপরাজিত ১০ রান করেন। বাঁহাতি স্পিনার জ্যাক লিচ ৪টি উইকেট নিলেও ভারতীয় ব্যাটিং লাইনে ধস নামান অফ স্পিনার রুট।
৮ রানে ৫ উইকেট নেন তিনি। ৩৩ রানে লিড পায় ভারত। দ্বিতীয় ইনিংসে অক্ষর প্যাটেল-অশ্বিনের তোপে ৮১ রানে অলআউট হয়ে যায় ইংল্যান্ড। প্যাটেল ৩২ রানে ৫টি, টেস্টে ৪০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করা অশ্বিন ৪টি উইকেট নেন। পরে রোহিত-গিলের ব্যাটিংয়ে বিনা উইকেটে ৪৯ রান তুলে ম্যাচ জিতে নেয় ভারত। রোহিত অপরাজিত ২৫, গিল অপরাজিত ১৫ রান করেন। ম্যাচে ভারতের জয়ের নায়ক স্পিনাররা। দুই ইনিংসে ১১ উইকেট (৬, ৫) নিয়ে ম্যাচ সেরা বাঁহাতি স্পিনার অক্ষর প্যাটেল। গতকাল ম্যাচ শেষে তিনি বলেছেন, ‘আমার শক্তি ছিল উইকেট টু উইকেট বোলিং করা। ব্যাটসম্যানদের সুযোগ না দেওয়া। তাদেরকে ভুল করতে প্রলুব্ধ করা এবং রান তোলা যেন কঠিন হয়।’
দুই দিনেই ৩০ উইকেট গিলে খাওয়া উইকেটের চেয়ে ব্যাটসম্যানদের বেশি দুষলেন ভারতীয় অধিনায়ক কোহলি। ম্যাচের পর তিনি বলেছেন, ‘সত্যি বলতে, আমি মনে করি না দুই দলের ব্যাটিং মানসম্মত ছিল। প্রথম দিন বল ভালোই আসছিল। কিছু বল টার্ন করছিল। দুই দলের ব্যাটিং মানের নিচে ছিল। ৩০ উইকেট গেছে, তার মধ্যে ২১ টাই সোজা বল। পুরোটাই মনঃসংযোগের ঘাটতি।’
রুট অবশ্য উইকেটের সমালোচনায় মাতেননি। ইংল্যান্ড অধিনায়ক নিজেদের ব্যাটিং ব্যর্থতাকেই তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা টস জিতে আগে ব্যাট করেছি। সুযোগ কাজে লাগাতে পারিনি। আমাদের ২৫০ করা উচিত ছিল, ‘যেটা ভালো স্কোর হতে পারত। দুই দলই ম্যাচ জুড়ে সংগ্রাম করেছে।’
ইত্তেফাক/এসআই