ইত্তেফাকে সচিত্র প্রতিবেদনের পর প্রশাসনের উদ্যোগ 

নির্যাতনের শিকার নিখোঁজ শিশু গৃহকর্মী ২৩ ঘণ্টা পর উদ্ধার, থানায় মামলা

বরিশালের উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে নিখোঁজ হওয়ার ২৩ ঘণ্টা পর আগৈলঝাড়া উপজেলার এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে ঢাকায় চিকিৎসকের স্ত্রী কর্তৃক নির্যাতনের শিকার শিশু গৃহকর্মী নিপা। এ ঘটনায় অবশেষে উজিরপুর মডেল থানায় ৩ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। 

শনিবার (২৭ ফেব্রুয়ারী) দুপুরে নির্যাতিত শিশুর কাকা তপন বাড়ৈ বাদী হয়ে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালের রেজিস্টার ডা. সি.এইস রবিনের স্ত্রী রাখী দাস, ডা. সি.এইস রবিন ও কম্পাউন্ডার বাসুদেব এর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

এ বিষয়ে বরিশাল জেলা পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেন জানান, এ বিষয়ে আইনানুগ কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। 

এর আগে আজ ভোররাত ৪টার দিকে বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার আশোয়ার গ্রামের জনৈক বিমলের বাড়ি থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। 

নির্যাতনের শিকার নিপা বাড়ৈ

বিষয়টি নিশ্চিত করে বরিশাল জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার ইত্তেফাককে জানান, পুলিশ কর্তৃক উদ্ধারের পর ঐ শিশুটিকে আগৈলঝাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের তত্ত্ববধানে নেওয়ার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও শিশুটিসহ মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত পিতা ও অন্যান্য সদস্যদের সহায়তার জন্য উজিরপুরের নির্বাহী অফিসার ও সমাজসেবা অফিসারকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। 

শিশু নিপা বাড়ৈ নিখোঁজের বিষয়ে দৈনিক ইত্তেফাকে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশের পর জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের সমন্বয়ে শিশুটি ও পরিবারের নিরাপত্তাসহ অন্যান্য সহায়তার নির্দেশনা দেন ঊর্ধ্বতনরা। 

উজিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জিয়াউল আহসান জানান, নির্যাতনের শিকার ফেলে রেখে যাওয়া শিশুটিকে উদ্ধার করে চিকিৎসা চলাকালে নিখোঁজের সংবাদ পেয়েই পুলিশ অভিযানে নামে। ঐ শিশুটির কাকা পরিচয়দানকারী তপন বাড়ৈর মামা শ্বশুর বিগলের বাড়ি থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। এদিকে শিশুটিকে এভাবে চিকিৎসা না দিয়ে হাসপাতাল থেকে নিয়ে যাওয়ার কারণ খতিয়ে দেখছে পুলিশ। 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শিশুটির গ্রামের বাড়ির পাশেই তপন বাড়ৈ নামে ব্যক্তি রয়েছেন। যিনি শিশুটির সম্পর্কে চাচা হন, তিনি স্থানীয় ইউপি মেম্বর নরেন্দ্র নাথ (নরেন) বাড়ৈ’র যোগসাজশে শিশুটিকে হাসপাতাল থেকে নিয়ে যাওয়াসহ বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য শুরু থেকেই জড়িত ছিলেন। স্থানীয়দের ধারণা আর্থিক প্রলোভনে নির্যাতনকারীদের পক্ষ হয়ে শিশুটির সাথে অমানবিক আচরণে লিপ্ত হয়ে এ কার্যক্রম চালানো হয়েছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বেলা ১১টায় বরিশালের উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার ডা. মো. শামসুদ্দোহা তাওহিদ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত চাচা পরিচয়ে এক ব্যক্তি নির্যাতনের শিকার শিশু নিপাকে হাসপাতাল থেকে নিয়ে যাওয়ার জন্য চেষ্টা চালান। তবে শিশুটির শারীরিক অবস্থা ভালো না থাকায় তার সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত এবং বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় পুলিশকে না জানিয়ে তাকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ছাড়পত্র দিতে রাজি হয়নি। পরে শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ঐ শিশুটি এবং তার সাথে থাকা বড় মা পরিচয়দানকারী নারীকে আর দেখা যায়নি। 

শিশুটির পাশের বেডের রোগীরা জানিয়েছেন, সারারাত ঐ শিশুটির স্বজনদের মোবাইলে অনেক কল আসে এবং তারা সারারাত সজাগই ছিলেন। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে শিশুটি নিখোঁজের ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের হয়ে তিনি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। 

ডা. সি.এইচ রবিনের স্ত্রী রাখির অমানুষিক নির্যাতনের শিকার শিশু গৃহকর্মীকে সর্বশেষ ২৩ ফেব্রুয়ারি গ্রামের বাড়িতে ফেলে রাখা হয়। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করলে দেখা যায় শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষত হয়ে রয়েছে। হাসপাতালের চিকৎসকরা তার পুরাতন ও নতুন ক্ষত এর চিকিৎসা দিচ্ছিলেন।  

ইত্তেফাক/এএএম