স্পোর্টস রিপোর্টার
শাস্তি কমিয়ে নিউজিল্যান্ড সফরে বাংলাদেশ ওয়ানডে দলে নেওয়া হয়েছে সাব্বির রহমানকে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার ছয় মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষ হবে ২৮ ফেব্রুয়ারি। কিন্তু বারবার শৃঙ্খলাভঙ্গ করা সাব্বিরকে দলে ফেরানো হয়েছে ওয়ানডে দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজার ইচ্ছায়।
গত বুধবার সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় দলের প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু সরাসরিই বলেছেন, অধিনায়কের পছন্দেই দলে সুযোগ পেয়েছেন সাব্বির।
দল ঘোষণার পর থেকেই বিষয়টি দেশজুড়ে বড় আলোচনার বিষয়। ইতিবাচক, নেতিবাচক দুই ধরনের আলোচনাই আছে। যেখানে উঠে আসছে কয়েকটি প্রশ্নও। ওয়ানডে দলে সাব্বির আদৌ কতটা অপরিহার্য? তাকে ছাড়া কি ওয়ানডে দলে সাত নম্বরের অভাব পূরণ হওয়ার নয়? আর শাস্তি কমিয়ে ফেরানোটা ভবিষ্যত্ ক্রিকেটারদের সামনে কি ধরনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হলো? মাশরাফিইবা কেন বিশৃঙ্খল সাব্বিরের পক্ষে অবস্থান নিলেন?
প্রায় সবকটি প্রশ্নের উত্তরই দিয়েছেন মাশরাফি। গতকাল বিডিনিউজকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক।
সাব্বিরকে নেওয়ার পেছনে নিজের যুক্তি উপস্থাপন করতে গিয়ে মাশরাফি বলেছেন, ‘নিজের যুক্তি আমার কাছে পরিষ্কার। দেখুন, ১৫ জনের দলের ১৪ জন কোচ-নির্বাচকেরা ঠিক করেই রেখেছিলেন (জাতীয় কোচও নির্বাচক কমিটির অংশ)। ১৫ নম্বর সদস্য নিয়ে তার আমার মত জানতে চেয়েছেন। আমাকে কয়েকটি অপশন দেওয়া হয়েছে, তাদের মধ্য থেকে কাকে নেওয়া যায়, সে ব্যাপারে আমার অভিমত চেয়েছেন। ইমরুল, মোসাদ্দেক, রনি (আবু হায়দার), অপু (নাজমুল), নাকি সাব্বির।’
যেখানে ওপেনিংয়ে, মিডল অর্ডারে, স্পিন বিভাগে, পেস বোলিংয়ে কোনো ঘাটতি দেখছেন না তিনি। তিনি বলেছেন, ‘কেবল ছয়-সাতেই বিকল্প কাউকে দরকার হতে পারে। সেখানে এই তালিকা থেকে আমার সামনে অপশন ছিল মোসাদ্দেক ও সাব্বির। মোসাদ্দেক বিপিএলে কালকের (বুধবার) ম্যাচের আগ পর্যন্ত সেভাবে টাচে ছিল না। তাছাড়া সাত নম্বর ওর উপযুক্ত জায়গা কিনা, এটি নিয়ে তো আপনারাই কত প্রশ্ন তুলেছেন। সেই প্রশ্ন যৌক্তিকও। এখন সাব্বির ছাড়া বিকল্প কে ছিল?’
সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেননি বলে জানিয়েছেন মাশরাফি। তিনি বলেছেন, ‘আমি আমার যুক্তি বলেছি। কিছুই চাপিয়ে দেইনি। সেই অধিকার আমার নেই। আমার মতই তো শেষ কথা নয়। আমি এটাও বলেছিলাম যে, আমার কথা বললাম, বাকিটা আপনারা যা মনে করেন।’
সামর্থ্যের কারণেই সাব্বিরের পক্ষ নিয়েছেন ওয়ানডে অধিনায়ক। যেখানে মূল টার্গেট হলো বিশ্বকাপ। বলেছেন, ‘অধিনায়ক হিসেবে আমাকে এখন ভাবতে হবে বিশ্বকাপের কথা। আমাকে স্বপ্ন দেখতে হবে বড়। পারি বা না পারি, আমাকে যেতে হবে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে। ভাবতে হবে সেভাবেই।’
বিভিন্ন দলের তারকা পেসারদের খেলার সামর্থ্য সাব্বিরের রয়েছে বলেই বিশ্বাস মাশরাফির। তিনি বলেছেন, ‘ছয়ে ওর স্ট্রাইক রেট একশর কাছাকাছি (৯৮.৯০), সাতে একশর বেশি (১০৩.৫৭)! আট নম্বরে একবারই খেলেছে, বিশ্বকাপে ফিফটি করেছে। অবশ্যই বলছি না, সাব্বির পেরেছে। দাবি করছি না সে ভালো করেছে। তবে এই স্ট্রাইক রেট আর ওর ব্যাটিংয়ের ধরন বলে, ওর সামর্থ্যটা অন্তত আছে।’
শাস্তি দেওয়ার দৃষ্টান্ত দেখিয়েছে বিসিবি। এবার না শুধরালে এর ফল সাব্বিরকেই ভোগ করতে হবে। ওয়ানডে অধিনায়ক বলেছেন, ‘দৃষ্টান্ত আমি মনে করি, দেওয়া হয়েছে। সে কিন্তু সহজে পার পায়নি। এরপরও যদি না শোধরায়, তাহলে সেটির ফলও তাকেই ভোগ করতে হবে। পাপন ভাই (বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসান) তো এবার নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার সময়ই বলেছিলেন, এরপরও এমন কিছু করলে সে আজীবন নিষেধাজ্ঞা পাবে।’