বাজে আম্পায়ারিংয়ের প্রতিবাদ
স্পোর্টস রিপোর্টার
ঢাকা দ্বিতীয় বিভাগ ক্রিকেটে পক্ষপাতমূলক আম্পায়ারিংয়ের প্রতিবাদে গত ২০ জানুয়ারি মাঠ ত্যাগ করেছিল ধানমন্ডি প্রগতি সংঘ। বিকেএসপির তিন নম্বর মাঠে আজিম ক্রিকেট ক্লাবের বিপক্ষে রান তাড়া করতে নামা ধানমন্ডি প্রগতির ইনিংসে টানা তিনটি এলবিডব্লিউর সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন আম্পায়াররা। যার প্রতিবাদে মাঠ ছেড়ে আসা ক্লাবটির বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ব্যবস্থা নিয়েছে লিগের নিয়ন্ত্রক ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিস (সিসিডিএম)।
বিষয়টি নিয়ে গত বুধবার সিসিডিএমের সভায় ধানমন্ডি প্রগতিকে তিন প্রকারের শাস্তির সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিসিবি জানিয়েছে, সিসিডিএম ঘটনাটি পর্যালোচনা করেছে। সর্বসম্মতিক্রমে তাদের পর্যবেক্ষণ হলো, ধানমন্ডি প্রগতির প্রতিবাদের প্রকৃতি ছিল আক্রমণাত্মক ও হুমকিস্বরূপ। তারপর তাদের খেলতে অস্বীকৃতি জানানোটা ছিল খেলার স্পিরিটের বাইরে। ম্যাচ রেফারির রিপোর্ট ও সবকিছু বিবেচনায় ধানমন্ডি প্রগতির বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গ অভিযোগে কয়েকটি পদক্ষেপ নিচ্ছে সিসিডিএম। যা দ্রুততম সময়ের মধ্যেই কার্যকর হবে।
সেই ম্যাচের দুই পয়েন্ট দিয়ে দেয়া হবে আজিম ক্রিকেট ক্লাবকে। ধানমন্ডি প্রগতিকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। দলটির অধিনায়ক মনির উদ্দিনকে ২৫ হাজার টাকা ও দুই ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
গত ২০ জানুয়ারি আগে ব্যাট করে ৯ উইকেটে ২০৬ রান তুলেছিল আজিম ক্রিকেট ক্লাব। জবাবে ৯ ওভার শেষে চার উইকেটে ৩০ রান তুলতেই মাঠ ছেড়ে যায় ধানমন্ডি প্রগতি সংঘ। ওপেনার শাহজাহান আউট হন দলীয় ১ রানে। তারপর তিন ব্যাটসম্যান ফিরেন এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়ে। ক্লাবটির কর্মকর্তাদের অভিযোগ ছিল, পায়ে লাগলেই আউট দেয়া হয়েছে। এমনকি বল কোমরে লাগার পরও এলবিডব্লিউ’র সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন আম্পায়ররা। ম্যাচে অনফিল্ড আম্পায়ার দায়িত্ব পালন করেছিলেন শাহ আলম ও সাইদুর রহমান। ঘরোয়া ক্রিকেট সাইদুর রহমানের বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক আম্পায়ারিংয়ের অভিযোগ অবশ্য নতুন নয়।
ঢাকার ক্লাব ক্রিকেটে বাজে আম্পায়ারিংয়ের প্রতিবাদ নতুন নয়। ২০১৭ সালের এপ্রিলে দ্বিতীয় বিভাগ ক্রিকেটেই এক্সিওম ক্রিকেটার্সের বিরুদ্ধে ৪ বলে ৯২ রান দিয়েছিলেন লালমাটিয়া ক্লাবের সুজন মাহমুদ। ফেয়ার ফাইটার্সের তাসনিম হাসান ৭ বলে ৬৪ রান দিয়েছিলেন। যা সাড়া ফেলেছিল গোটা ক্রিকেট বিশ্বে। যে ঘটনায় লালমাটিয়া ও ফেয়ার ফাইটার্সকে আজীবন নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। দুই বোলার সুজন মাহমুদ ও তাসনিম হাসানকে ১০ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করেছিল বিসিবি।