হেলিকপ্টার শুধু আকাশ পথে নয় স্থলপথ দিয়েও চলে! আর তা এখনো ২/১টি দেখা যায় তালা উপজেলাসহ সাতক্ষীরাতে। ষাটের দশকে এই অঞ্চলের জনপ্রিয় এই বাহনটি আজ যান্ত্রিকতার ছোঁয়ায় বিলুপ্তির পথে। হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য সেই বাইসাইকেল হেলিকপ্টার এখনো সবার হৃদয়ে গেঁথে আছে। এখান থেকে ২০-৩০ বছর পূর্বে এলাকায় সচরাচর হেলিকপ্টার দেখা যেতো। তখন এ এলাকার রাস্তাঘাট ছিল অধিকাংশ কাচা।
হেলিকপ্টার বলতে বাইসাইকেলের পিছনে একটি কাঠ বেঁধে তার উপর সাদা পলিথিনের মধ্যে গদি আটকিয়ে দিয়ে সুন্দর করে বেঁধে দেওয়া হয়। সেটাই হল সিট। ঐ সিটে মানুষ বসে তার গন্তব্য স্থলে পৌঁছে যায়। শুধু পেছনের ক্যারিয়ারে যাত্রী বহন করা হয় না; বিশেষ ব্যবস্থায় সামনের রডে আরও একজন যাত্রী বহন করা হয়। তবে এটা রাস্তায় চলে, আকাশ দিয়ে নয়।
মোটর সাইকেল, বাস, ইঞ্জিন চালিত ভ্যানগাড়ি প্রভৃতির সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এ সমস্ত যানবাহনের সাথে টিকে থাকতে না পেরে সাইকেল হেলিকপ্টার চালকেরা অন্য পেশা বেছে নিয়েছেন। আর যারা আছেন সারাদিন অপেক্ষা করেও যাত্রী পান না। অত্র অঞ্চলের গ্রামের রাস্তায় ২/৪ খানা খুঁজে পাওয়া মুশকিল। যার ফলে এই বাহনটি আজ বিলুপ্তির পথে।
শনিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) তালা উপজেলার খলিষখালী বাজারের চোখে পড়ে সেই অতীতের হারিয়ে যাওয়া বাইসাইকেল নামক হেলিকপ্টার। হেলিকপ্টারের পিছনে বসে আছেন একজন যাত্রী। দেখে মনে হলো যেন সেই আগের দিনে ফিরে এসেছে।
হেলিকপ্টার চালক তালা উপজেলার সুজনশাহ গ্রামের মৃত হরিদাশ দের পুত্র সুনীল দে (৬৫) জানান, তিনি দেশ স্বাধীনের পর থেকে এই হেলিকপ্টার চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। তার পিতামাতা কেউ নেই। ৪ ভাইয়ের মধ্যে তিনি তৃতীয়। বাকিরা কৃষি কাজ করেন। তবে তিনি আজও বিয়ে করেননি। তিনি জানান, এখন ডিজিটাল যুগ। এখন মানুষ আর হেলিকপ্টারে চড়েন না। রাস্তায় ব্যাটারি ভ্যান, নসিমন, করিমনসহ ইঞ্জিন চালিত ভ্যান থাকায় কেউ হেলিকপ্টারে চড়তে চায় না। তবে নিরিবিলি যাতায়াতের জন্য এই সাইকেল নামক হেলিকপ্টারের তুলনা নেই।
ঐ হেলিকপ্টারে থাকা যাত্রী তালা উপজেলার বাগমারা গ্রামের রনি শেখ জানান, আগে এক সময় হেলিকপ্টারে চড়েছি। তখন দেশে এত গাড়ি ঘোড়া ছিল না। তখন আমরা প্রায় সময় হেলিকপ্টারে চড়েছি। তবে হঠাৎ চোখের সামনে হেলিকপ্টার দেখে আর লোভ সামলাতে পারিনি। তাই ইসলামকাটি বাজার থেকে খলিষখালী বাজারে হেলিকপ্টার চড়ে এসেছি। খুব ভাল লেগেছে।
তালা উপজেলা সদরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী বাবুলাল সেন বলেন, ‘ছোট বেলায় দেখেছি গ্রামের রাস্তায় দু-একটা ভ্যান আর বেশির ভাগ সাইকেল হেলিকপ্টার চলতে। বাবার সাথে ছোট বেলা হেলিকপ্টারে খুব মজা করে চড়তাম। বাবা পেছনে আর আমরা ছোটদের সামনে বসিয়ে দিয়ে চালক চালাতেন। যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম ছিলো এই হেলিকপ্টার। কিন্তু আজ তেমন আর এটি দেখা যায় না। যা দু-একটা দেখা যায় তাদের ভাড়া হয় না। এখন মানুষ এতে খুব কম ওঠে। কেউ কেউ শখের বশে এতে ওঠে।’
ইত্তেফাক/এমআর