দুর্যোগ প্রতিরোধে প্রতিবেশী দেশগুলোর সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ :প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এশীয়-প্যাসিফিক অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে বিশেষ করে প্রতিবেশীদের মধ্যে সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেছেন, বড় আকারের বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য প্রতিবেশী দেশগুলোর সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে সিভিল-মিলিটারী সমন্বয়ের মাধ্যমে মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় রিজিওনাল কন্সালটেটিভ গ্রুপের ৪র্থ সেশনে উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং ত্রাণ মন্ত্রণালয় তিন দিনব্যাপী এই সম্মেলনের আয়োজন করেছে। এশিয়া এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের প্রায় ১৫০ জন প্রতিনিধি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।

বাংলাদেশ সমন্বিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায়, বিশেষ করে জরুরি প্রস্তুতি এবং সাড়াদানের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘প্রতিবন্ধিতা ও দুর্যোগ-ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বিষয়ে ২০১৫ এবং ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সম্মেলনে গৃহীত ঢাকা ঘোষণা এ ক্ষেত্রে প্রণিধানযোগ্য। এটি দুর্যোগ-ঝুঁকি হ্রাসে সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক বাস্তবায়নে প্রায়োগিক নির্দেশনা হিসেবে কাজ করছে।’ জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে টেকসই উন্নয়নের        নিবিড় সম্পর্কের উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি আমরা বদ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ প্রণয়ন করেছি। এ পরিকল্পনার আওতায় আগামী ১০০ বছরের টেকসই উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। এটি বাস্তবায়িত হলে জলবায়ু পরিবর্তন ঝুঁকি মোকাবিলাসহ দুর্যোগ-ঝুঁকি হ্রাস পাবে এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে মানবিক সহায়তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বাংলাদেশ। এছাড়া বাংলাদেশ মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো উন্নয়নে কাজ করছে। এর অংশ হিসেবে আমরা ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার (ইওসি) প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ হাতে নিয়েছি। ফলে নিরবচ্ছিন্ন সমন্বয়ের মাধ্যমে দ্রুত ও কার্যকর মানবিক সহায়তা পরিচালনা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, বিগত কয়েক বছরে ভূমিকম্পসহ অন্যান্য দুর্যোগে অনুসন্ধান ও উদ্ধার কাজ পরিচালনার জন্য প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জার্মানওয়াচ কর্তৃক প্রকাশিত ‘গ্লোবাল ক্লাইমেট রিস্ক ইনডেক্স-২০১৭’ অনুযায়ী ১৯৯৮ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে ১১ হাজার ৫০০ চরম আবহাওয়াজনিত দুর্যোগ সংঘটিত হয়েছে। এরফলে প্রায় ৫ লাখ ২৬ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। এসব দুর্যোগে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ছিল প্রায় ৩ দশমিক ৪৭ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালে সাইক্লোন প্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি) প্রস্তুত করেছিলেন। যা ছিল বিশ্বব্যাপী জনসম্পৃক্ত দুর্যোগ প্রস্তুতি কর্মসূচিগুলোর মধ্যে প্রথম উদ্যোগ। বাংলাদেশে এটিকে এখন দুর্যোগ মোকাবিলায় ফ্লাগশিপ কর্মসূচি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। বঙ্গবন্ধু উপকূল এলাকায় আশ্রয়কেন্দ্রও স্থাপন করেছিলেন যা মুজিব কিল্লা নামে পরিচিতি পায়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকারের দুর্যোগ-ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় বিনিয়োগ, দুর্যোগের পূর্বাভাস প্রদানের প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও উদ্ভাবন, আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপন এবং দুর্যোগের প্রস্তুতি ও উদ্ধার কার্যক্রমে সিপিপি স্বেচ্ছাসেবীদের নিবেদিত প্রচেষ্টাসহ বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণের ফলে সাম্প্রতিককালে যেকোন দুর্যোগে প্রাণহানির সংখ্যা ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে।

দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. মোহাম্মদ এনামুর রহমান অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তৃতা করেন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ শাহ কামাল অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক এবং ইউএনডিপি’র আবাসিক প্রতিনিধি মিয়া সেপো, স্টেন্টার অব এক্সিলেন্স ইন ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট এন্ড হিউম্যানিটেরিয়ান এসিসটেন্সের পরিচালক জোসেপ মার্টিন এবং জাতিসংঘের মানবিক বিষয় বিষয়ক সমন্বয়ের কার্যালয়ের উপপ্রধান সেবাস্টিয়ান রোডস স্ট্যাম্পা অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।

৬ জনকে আর্থিক সহায়তা প্রদান প্রধানমন্ত্রীর

জামায়াত-শিবির কর্মীদের গুলিতে নিহত যুবলীগ কর্মী জহিরুল হাসানের স্ত্রী বেগম জান্নাতুল ফেরদৌসকে ১০ লাখ টাকা সহায়তা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। লোকসঙ্গীত শিল্পী ও বাংলাদেশ টেলিভিশনের সঙ্গীত পরিচালক সৈয়দ গোলাম আম্বিয়ার ক্যান্সার চিকিত্সার জন্য ২৫ লাখ টাকা এবং চিকিত্সা ও পরিবারের ভরণ-পোষণের জন্য সাবেক ভলিবল খেলোয়াড় শ্রী উপেন্দ্র নারায়ণ পালকে (নিখিল পাল) ৩০ লাখ টাকা অনুদান দেন প্রধানমন্ত্রী। গতকাল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আরো তিনজনকে চিকিত্সার জন্য ৬১ লাখ টাকা অনুদান হিসেবে প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী ।

নারী ফুটবল দলের আরো ১১ জনকে প্রধানমন্ত্রীর পুরস্কার

২০১৮ আসরে সাফ অনূর্ধ্ব-১৮ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৮ নারী জাতীয় ফুটবল দলের আরো ১০ খেলোয়াড় ও ১ কর্মকর্তাকে পুরস্কৃত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার তেজগাঁওস্থ কার্যালয়ে তাদের হাতে আর্থিক পুরস্কারের চেক তুলে দেন। এর আগে গত ১১ অক্টোবর এক অনুষ্ঠানে সাফ জয়ী অনূর্ধ্ব ১৮ খেলোয়াড়দের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। তখন বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব ১৮ মহিলা জাতীয় ফুটবল দলের ৩০ সদস্যের মধ্যে ১৯ জনকে পুরস্কৃত করেন প্রধানমন্ত্রী। বাকি ১০ খেলোয়াড় ও ১ কর্মকর্তাকে গতকাল পুরস্কৃত করা হল। পুরস্কারপ্রাপ্ত ১০ খেলোয়াড়ের প্রত্যেককে ১০ লাখ টাকা করে এবং কর্মকর্তাকে ৫ লাখ টাকা দেয়া হয়। দ্বিতীয় দফায় পুরস্কারপ্রাপ্ত খেলোয়াড়রা হলেন রুকসানা বেগম, বেগম মাসুরা পারভীন, বেগম শিউলি আজিম, ইসরাত জাহান রত্না, বেগম মারজিয়া, বেগম সানজিদা আক্তার, ইসরাত জাহান স্বপ্না, কৃষ্ণা রানী সরকার, রাজিয়া খাতুন এবং মিডিয়া কর্মকর্তা খালিদ মাহমুদ।