আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আওয়ামী লীগের ভাঙার দরকার হবে না, বিএনপি তাদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জন্যই ভাঙনের মুখে পড়বে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর হোটেল রেডিসন ব্লুতে এলেঙ্গা-হাটিকুমরুল-রংপুর মহাসড়ক চারলেনে উন্নীতকরণের চুক্তি স্বাক্ষর শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী আরো বলেন, বিএনপিকে কখনো আমরা দুর্বল প্রতিপক্ষ ভাবি না। কিন্তু তারা তাদের কর্মকাণ্ডে দলটিকে এলোমেলো, লেজেগোবরে করেছে, বিএনপি তাদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলেই ভাঙবে।
সরকার বিএনপিকে ভাঙার জন্য নিরন্তরভাবে চেষ্টা করছে—মর্মে বিএনপির নেতাদের অভিযোগের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, আন্দোলন ও নির্বাচনে বিএনপির যে পারফরমেন্স, তাতে সরকারের এমন কি প্রয়োজন আছে? বিএনপির এখন যে নড়বড়ে, এলোমেলো অবস্থা, এ রকম একটি দলকে ভেঙে দিতে হবে? আমরা তো একটি শক্তিশালী বিরোধীদল চাই। তারা শক্তিশালী হলে গণতন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। বিএনপির যে কয়জন এমপি নির্বাচিত হয়েছেন, আমরা তো তাদের স্বাগত জানিয়েছি সংসদে আসতে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট টিকবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ঐক্যফ্রন্ট একটা জগাখিচুড়ি। এই জগাখিচুড়ির ঐক্য থাকবে না। এটা সবাই জানে। জাতীয় সংসদে বিরোধীদলে কোন দল থাকছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, জাতীয় পার্টির (জাপা) সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যে হয়েছে, জাতীয় সংসদে তারা বিরোধীদলের ভূমিকায় অবতীর্ণ হবে। তিনি বলেন, বিএনপি সংসদে না আসলেও জাপা ইতোমধ্যে বিরোধীদলের ভূমিকায় চলে গেছে। ১৪ দলের যারা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন তারা শক্তিশালী বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করতে চান। কাজেই সংসদে বিরোধীদল থাকবেই। তারপরও বিএনপি যদি সংসদে আসে তাহলে আরো কণ্ঠ যোগ হবে। বিরোধীদলের কণ্ঠ সোচ্চার ও শক্তিশালী হবে। এটা গণতন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্যও ভালো।
১৪ দল কীভাবে বিরোধী দলে যায়, সাংবাদিকের এ প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, দল তো ভিন্ন। একটি প্রতীক নিয়ে তারা নির্বাচন করেছে। কিন্তু তারা যদি এখন মনে করে, তারা বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করবে, এটা তাদের ব্যাপার। এটা তারা করতে পারেন।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে উপ-নির্বাচনে বিএনপি না এলে প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন নির্বাচন হচ্ছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে সেতুমন্ত্রী বলেন, অনেক প্রতিদ্বন্দ্বী থাকবে। বিএনপির জন্য নির্বাচনও থেমে থাকবে না।
১২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে
এলেঙ্গা-হাটিকুমরুল-রংপুর মহাসড়ক
চারলেনে উন্নীত হচ্ছে
প্রায় বারো হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ১৯০ কিলোমিটার দীর্ঘ এলেঙ্গা-হাটিকুমরুল-রংপুর জাতীয় মহাসড়ক চারলেনে উন্নীত করা হচ্ছে। দ্বিতীয় সাসেক সড়ক সংযোগ প্রকল্পের আওতায় এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক-এডিবি’র আর্থিক সহযোগিতায় এ কাজ বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে। গতকাল নগরীর হোটেল রেডিসন ব্লুতে সড়ক ও জনপথ বিভাগের সাথে নির্মাণ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের ৬ নম্বর প্যাকেজের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তিপত্রে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের পক্ষে প্রধান প্রকৌশলী ইবনে আলম হাসান এবং নির্মাণ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান চীনের প্রতিষ্ঠান হিগো ও বাংলাদেশের মীর আকতার হোসেন লি. এর পক্ষে লিও শিওয়াও স্বাক্ষর করেন। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মো. নজরুল ইসলাম, এডিবি’র কান্ট্রি ডিরেক্টর মনমোহন পার্কাশ, প্রকল্প পরিচালক কাজী শাহরিয়ার হোসেনসহ মন্ত্রণালয়, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর এবং প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।