গ্যাটকো দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ অন্য আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন ৭ ফেব্রুয়ারি ধার্য করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের জন্য শুনানির দিন ধার্য ছিল। কিন্তু খালেদা জিয়ার আইনজীবী এ জে এম মোহাম্মদ আলীসহ অন্যরা শুনানি পেছানোর আবেদন করেন। পরে উভয়পক্ষের শুনানি শেষে ৭ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী দিন ধার্য করেন আদালত। এদিকে আদালতে বসার জায়গা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন খালেদা জিয়া। এ নিয়ে দুই পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়।
দুর্নীতির দুই মামলায় কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপি নেত্রী গত বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কারাগারে আছেন। তার বিরুদ্ধে নাইকো দুর্নীতি মামলার বিচার কারাগারের ভেতরে অস্থায়ী এজলাসে হলেও গ্যাটকো মামলা চলছে বকশীবাজারে ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের অস্থায়ী এজলাসে।
গতকাল শুনানিতে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা বলেন, মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ যেসব ডকুমেন্ট আদালতে দাখিল করেছে, সেগুলো হাতে পেলে আমরা অভিযোগ গঠন বিষয়ে শুনানি করবো। এজন্য শুনানি পেছানো হোক। তবে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, সময়ক্ষেপণের জন্য এগুলো বলা হচ্ছে। উভয়পক্ষের আইনজীবীর বক্তব্য শেষে বিচারক আবু সৈয়দ দিলজার হোসেন শুনানি পিছিয়ে দেন। জানা গেছে, দুপুর ১২টা ৩৫ মিনিটে কারাগার থেকে খালেদা জিয়াকে বকশীবাজার আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে অস্থায়ী বিশেষ আদালতে হাজির করা হয়। এরপর বিচারক তার এজলাসে আসেন। শুনানি শুরু হয় ১২টা ৫০ মিনিটে। আদালতে বসার জায়গা নিয়ে আপত্তি তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিএনপি চেয়ারপারসন। তিনি বলেন, ‘আমি তো কিছুই দেখছি না। আমি তো আপনাকেও (বিচারক) দেখছি না। এই দেয়াল তো এর আগে ছিল না, এখন কোথা থেকে এলো। আমি এখানে থাকবো না। আমি এখান থেকে চলে যাব।’
এরপর খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের সঙ্গে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজলের কিছুটা বাগিবতণ্ডা হয়। পরে বিচারক তাদের শান্ত করে বলেন, বসার জন্য আগামীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আদালত কার্যক্রম শেষ হয় ১টা ৩৫ মিনিটে। এরপরেই খালেদা জিয়াকে অস্থায়ী বিশেষ আদালত থেকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।
২ আসামির নামে ওয়ারেন্ট:এদিকে এই মামলায় জামিনে থাকা দুই আসামি এ কে এম মোশাররফ হোসেন ও ইসমাইল হোসেন সায়মন আদালতে হাজির না হওয়ায় তাদের আইনজীবীরা জামিন বহাল রাখার আবেদন করেন। পরে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাদের নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।
শুনানির সময় খালেদা জিয়ার পক্ষে আদালতে উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার, এ জে এম মোহাম্মদ আলী, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনসহ আরও অনেকে।