মিথ্যা ঘোষনায় আনা পণ্য খালাসে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজে অভিনব জালিয়াতির বিষয়টিকে এনবিআর গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। এ লক্ষ্যে গঠিত তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে। ইতিমধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজ এলাকা পরিদর্শনের লক্ষ্যে সেখানে গেছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, তারা এ জালিয়াতি কীভাবে ঘটেছে এবং এর পেছনে কারা রয়েছে, সে বিষয়ে প্রাথমিক কিছু আলোচনা করেছেন। এক মাসের মধ্যেই দায়ীদের শনাক্ত করা ও রাজস্ব ক্ষতি নিরূপনের চেষ্টা চলছে।
চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজের কমিশনার ড. এ কে এম নুরুজ্জামানকে বদলী করে ইতিমধ্যে সেখানে ঢাকা দক্ষিণ ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনার কাজী মোস্তাফিজুর রহমানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। গতকাল ইত্তেফাকের
সঙ্গে আলাপকালে মোস্তাফিজুর রহমানকে বলেন, আগামী সোমবার নাগাদ সেখানে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। এই ঘটনার পেছনে কারা রয়েছে তা খুব দ্রুত বের করতে পারবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এদিকে গতকাল রাজধানীর সেগুনবাগিচায় রাজস্ব ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া সাংবাদিকদের বলেন, এ ঘটনার ফলে একটি বড় অঙ্কের রাজস্ব হারিয়েছি, এটি নিশ্চিত। তিনি বলেন, আমরা ইস্যুটিকে বেশ গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি। কমিটি গঠন করা হয়েছে, কঠোরভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। যে কোন অপরাধীই কোন ক্লু রেখে যায়। অপরাধীদের বিরুদ্ধে শক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, একটি আমদানি চালানে মিথ্যা ঘোষনার পণ্য চালান থাকার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেটির শুল্কায়ন স্থগিত রাখতে অনুরোধ জানায় শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ। শুল্কায়ন স্থগিত হওয়া সেই পণ্যের চালান ওই অফিসের অবসরে যাওয়া এক কর্মকর্তার আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে শুল্কায়ন করে খালাস হয়ে যায়, যা এভাবে হওয়ার কথা নয়। এর পর অধিকতর তদন্ত করতে গিয়ে জানা যায়, ওই কর্মকর্তাসহ দুইজনের ইউজার আইডি এ প্রক্রিয়ায় ব্যবহার হয়েছে প্রায় চার হাজার বার। কাস্টমস হাউজের একটি চক্র এ প্রক্রিয়ায় বিশাল সংখ্যক মিথ্যা ঘোষণার আমদানি চালান এভাবে জালিয়াতি করে খালাস করে নিয়েছে বলে ধারণা করছে শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ। ইস্যুটি নিয়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এনবিআরে। এ বিষয়ে একটি মামলা হয়েছে এবং গ্রেফতার হয়েছে এক সিএন্ডএফ এজেন্ট।
তবে ভুয়া আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে পণ্যভর্তি কন্টেইনার খালাস সংক্রান্ত তথ্যকে ‘অতিরঞ্জিত’ বলে দাবি করেছেন ড. এ কে এম নুরুজ্জামান। ইত্তেফাককে তিনি বলেন, পূর্বেই শুল্ক আদায় হয়ে যাওয়ায় মাত্র ২৯টি কন্টেইনার হ্যাক করে বের করে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় সরকারের রাজস্ব হারানোর পরিমাণ ‘খুবই নগন্য’।
এদিকে আমদানি পণ্যের শুল্কায়নের ক্ষেত্রে আমদানিকারকদেরও বিভিন্ন ধরণের আইনি জটিলতায় হয়রানির শিকার হতে হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এনবিআরের বিভিন্ন আদেশ, বিধিমালা কিংবা প্রয়োগের অসামঞ্জস্যতার সুযোগে আমদানির ক্ষেত্রে বাড়তি শুল্ক কিংবা অবৈধ লেনদেন করতে হয়। অন্যথায় পণ্য ছাড়ে দেরি হয়। এনবিআর সূত্র জানিয়েছে, এসব সমস্যা চিহ্নিত করতে কাস্টমস হাউজে সফররত প্রতিনিধিদল কাজ করছে।