অনুসন্ধান চলাকালেই অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদ জব্দের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে ‘অপরাধলব্ধ সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা ইউনিট’র কার্যক্রম নিয়ে এক জরুরি সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। অপরাধলব্ধ সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা ইউনিটের পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছির, গোয়েন্দা ইউনিটের পরিচালক, আইন অনুবিভাগের পরিচালক ও বিশেষ তদন্ত অনুবিভাগের পরিচালকসহ দুদকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সভায় উপস্থিত ছিলেন।
সভায় দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ২০০৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত অবৈধ সম্পদসংক্রান্ত চলমান মামলা এবং নিষ্পত্তি হয়ে কমিশনের পক্ষে রায় যাওয়া মামলার তালিকা কমিশনে লিপিবদ্ধ করতে হবে। অবৈধ সম্পদ জব্দ, ক্রোক বা অবরুদ্ধ করার তথ্যও রেজিস্ট্রারে রাখতে হবে। ইতোমধ্যেই যেসব মামলায় আসামিদের শাস্তির পাশাপাশি আর্থিক জরিমানা অথবা সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে সেই তথ্য রেজিস্ট্রারে লিপিবদ্ধ করার নির্দেশ দেন ইকবাল মাহমুদ।
দুদক চেয়ারম্যান বলেন, জব্দ করা অবৈধ সম্পদ ভোগ করার সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না। অবৈধ সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে আনার ব্যবস্থা করবে দুদক। এসব সম্পদ ব্যবস্থাপনায় যাতে কোনো দুর্নীতি না হয় সেজন্য নীতিমালা করা যায় কি না, তা খতিয়ে দেখতে কমিশনের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন তিনি। কেবিনেট ডিভিশন, অর্থ মন্ত্রণালয়, আইন-বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে যৌথ আউট সোর্সিংয়ের মাধ্যমে জব্দ করা অবৈধ সম্পদ সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা যায় কি না তা-ও খতিয়ে দেখতে বলেন দুদক চেয়ারম্যান।
সভায় দুদক চেয়ারম্যান বলেন, যে সকল মামলায় আসামিরা মারা গেছেন কিন্তু অবৈধ সম্পত্তি রয়ে গেছে এসব অবৈধ সম্পদ ক্রোক/জব্দ/বাজেয়াপ্ত করার জন্য আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে।
সম্প্রতি স্বাস্থ্য অধিদফতরের মেডিক্যাল এডুকেশন শাখার হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মো. আবজাল হোসেনের কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের প্রসঙ্গ টেনে ইকবাল মাহমুদ বলেন, আবজালের জব্দ হওয়া ব্যাংক হিসাবের বাইরেও ব্যাংক হিসাব থাকতে পারে। তাই তার সকল ব্যাংক হিসাবের লেনদেন স্থগিত রাখার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের ফিন্যান্সিয়াল ইউনিটকে চিঠি পাঠাতে হবে।
দুদকের অভিযান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা নিয়েও সভায় কথা হয়। এ বিষয়ে দুদক চেয়ারম্যান সভায় বলেন, আইন মেনেই কমিশনের প্রতিটি অভিযান হচ্ছে।