সিলেট বিভাগের নদ-নদীগুলো নানা কারণে অবিশ্বাস্য গতিতে ভরাট হয়ে যাচ্ছে । এছাড়া এর পানিও দূষণের কবলে পড়েছে। এর সাথে যোগ হয়েছে নদী ভাঙন। ফলে তীরবর্তী মানুষ নানা দুর্ভোগের সম্মুখীন হচ্ছে। নদী ভরাটের কারণে স্থানে স্থানে নৌযান আটকা পড়ছে। ভাটির জনপদ সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার বৌলাই ও আবুয়া নদীতে নাব্যতা সংকটের কারণে প্রায় চার শতাধিক বালু ও পাথরবোঝাই নৌকা পক্ষকালের বেশী সময় ধরে আটকা পড়ে আছে।
এক সময় পাহাড় থেকে নেমে আসা সিলেটের অন্যতম সুরমা, কুশিয়ারা, সারি, লোভা পিয়াইন, বৌলাই, রক্তি, যাদুকাটা মনু, খোয়াই, সুতাং নদী সহ অনেক নদী খরস্রোতে বহমান ছিল। হেমন্ত-বর্ষা সব মৌসুমেই নদীগুলো ছিল স্রোতস্বনী। কিন্তু এখন এসব নদী যেন তার বৈশিষ্ট ও যৌবন হারাতে বসছে। অনেক স্থানে পলি-বালি পড়ে হারিয়ে গেছে নদীর অস্তিত্ব। নদীতীরগুলো কোন কোন শহরের কাছে আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। বর্ষায় সিলেট সীমান্তে পাহাড়ী ঢলের সাথে বালি ও কয়লার বর্জ্য নামে। বিশেষ করে কয়লার কণা ভাটিতে আটকে থাকে নানা জনপদের নদীতে। হেমন্তে এই কয়লা কুড়িয়ে অনেকেই জীবিকা নির্বাহ করে। নদীর তলদেশে আটকে থাকা কয়লার কারণে মাছের প্রজননে বিঘ্ন ঘটছে। এই অবস্থায় পড়েছে সিলেটের পর্যটন সমৃদ্ধ জৈন্তাপুরের সারী নদী ও সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের যাদুকাটা নদী।
জৈন্তাপুর সংবাদদাতা মোঃ হানিফ জানান, জৈন্তার সারি নদী জুড়ে চলে বালু ও কয়লা উত্তোলনের মহোত্সব। উত্স মুখের চিত্র আরও করুণ। জেগে ওঠা চরে কিংবা হাঁটুসমান পানিতে যত্রতত্র গর্ত খুঁড়ে বের করা হচ্ছে কয়লা। বস্তাবন্দী করে নদী তীরেই চলে কেনা বেচা। এ কারণে সারির উত্সমুখ সহ পর্যটকদের কাছে দর্শনীয় লালাখাল বিপন্ন হয়ে পড়েছে। নদীর পানিতে থাকতে পারছে না মাছসহ অন্যান্য জলজ প্রাণী? সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় নদীর তীরের বববাসকারী শ্রমিকরা পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে শুরু করে কয়লা উত্তোলন। প্রায় দুই তিন মাস ধরে খোঁড়া-খুঁড়ি চলায় শ্রমিকরা। এ কারনে কোনো কোনো জায়গায় নদীর গতিপথও পরিবর্তন হয়ে গেছে।
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি মো.বুরহান উদ্দিন জানান, জামালগঞ্জ উপজেলার বৌলাই ও আবুয়া নদীতে নাব্যতা সংকটের কারণে সৃষ্টি হয়েছে নৌজট। এ কারণে প্রায় চার শতাধিক বালু ও পাথরবোঝাই নৌকা পক্ষকাল থেকে আটকা পড়ে আছে। ফলে এই খাতের ব্যবসায়ীরা ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়েছে। এ ছাড়া এসব নৌযানের প্রায় দুই হাজার শ্রমিকও দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।