বৃক্ষ

চাপালিশ

বৃহত্, উঁচু, পত্রঝরা বৃক্ষ। এর আরো নাম  চাম্বুল, চাম, কাঁঠালি চাম, টোপোনি (মগ), বলস্রাম (গারো)। পাতা সরল, একান্তর, বৃন্তক এবং অণুপর্ণী, উপপত্র বৃহত্, কাণ্ডবেষ্টক। চারা, তরুণ বৃক্ষ এবং নতুন ডগার পাতা  অতি বৃহদাকার, ৯০ সেন্টিমটার পর্যন্ত লম্বা, খণ্ডিত বা বিভক্ত, বয়ষ্ক পাতা (পরিণত অংশের) উপবৃত্তাকার-ডিম্বাকার, রোমশ, নিচের প্রান্ত উপহূিপণ্ডাকার বা গোলাকার, শীর্ষ স্থূলাগ্র এবং কিনারা অখণ্ড থেকে ক্ষুদ্রাকারে ক্রকচ। উদ্ভিদ সহবাসী, পুষ্পগুলো গোলাকার পুষ্পধার ঘনভাবে সমাকীর্ণ, বৃন্তক, একক এবং কাক্ষিক। পুঞ্জীভূত ফল গোলাকার, গুটিকাযুক্ত, আড়াআড়িভাবে ৭ থেকে ১০ সেন্টিমিটার। বীজ দীর্ঘায়ত, ১.২ সেন্টিমিটার (প্রায়) লম্বা। ফুল ও ফল ধারণ এপ্রিল থেকে আগস্ট। আবাসস্থল চিরহরিত্ অরণ্য। চাপালিশ একটি মহাবিপন্ন উদ্ভিদ।

দেশে এই প্রজাতিটি মধুপুর, চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেটের বনভূমি থেকে নথিভুক্ত হয়েছে। ফল খাওয়া যায়, স্বাদ হালকা টক-মিষ্টি। বীজ আগুনে পুড়িয়ে খাওয়া যায়, স্বাদ আনেকটা চীনা বাদামের মতো। ফল হাতির প্রিয় খাবার। কাঠ মূল্যবান, হলুদাভ বাদামি, বেশ শক্ত, মজবুত এবং টেকসই—আসবাবপত্র, দরজা-জানালা এবং রেলপথের স্লিপার তৈরির জন্য বেশি ব্যবহূত হয়।

বন এলাকায় প্রাকৃতিকভাবে চাপালিশের বীজ থেকে চারা ও গাছ জন্মায়। ঢাকার মিরপুরের জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যানের ৩৫ নম্বর সেকশনে লাগানো চাপালিশের কিছু গাছ সংরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে।

চয়ন বিকাশ ভদ্র