ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র, ট্রেড লাইসেন্স ও টিন সার্টিফিকেট তৈরি করে ব্যাংক ঋণ নিয়ে আত্মসাত্কারী চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ডিবি। গ্রেফতারকৃতরা হলেন আল আমিন ওরফে জামিল শরীফ, খ. ম. হাসান ইমাম ওরফে বিদ্যুত্, আব্দুল্লাহ আল শহীদ, রেজাউল ইসলাম ও শাহ জামান। খিলগাঁও ও রামপুরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহূত একটি প্রাইভেটকার উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল বুধবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার এ সংক্রান্ত এক সংবাদ সম্মেলনে এ সব তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘এই চক্রের সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্র বিভাগের নিম্নপদের কয়েকজন কর্মচারী জড়িত। আমরা বিষয়টি এনআইডি কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। তারা এরই মধ্যে ৪৪ জন কর্মচারীকে বহিষ্কার করেছে। বহিষ্কার হওয়ার আগে এদের কেউ কেউ এই প্রতারণা চক্রের সঙ্গে জড়িত হয়ে কাজ করেছেন।’
পুলিশ জানায়, একটি ফ্ল্যাটের নামে ৮৫ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকা ব্যাংকের পক্ষে গত ৭ ডিসেম্বর ও ১২ ডিসেম্বর খিলগাঁও এবং পল্টন থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলার তদন্তভার গোয়েন্দা পুলিশের কাছে স্থানান্তর করা হলে গোয়েন্দা পুলিশের খিলগাঁও জোনাল টিম প্রতারকদের ধরতে অনুসন্ধান শুরু করে। অনুসন্ধানে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানতে পারেন, এই চক্রটি পেশাদার প্রতারক চক্র। তারা ভুয়া এনআইডি, ট্রেড লাইসেন্স ও টিন সার্টিফিকেট তৈরি করে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে আত্মসাত্ করে। এরই ধারাবাহিকতায় গোয়েন্দা পুলিশ গত ২৮ ফেব্রুয়ারি বিপ্লব নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে। জিজ্ঞাসাবাদে বিপ্লব জানায়, ভুয়া এনআইডি তৈরির সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের নিম্ন শ্রেণির অসাধু কিছু কর্মকর্তা জড়িত। তাদের সহযোগিতায় ভুয়া এনআইডি তৈরি করে তারা প্রতারণা করেছে। ঋণ নেওয়ার সময় এনআইডি যাচাই করার সময় ভুয়া এনআইডির তথ্য সাময়িকভাবে সার্ভারে আপলোড করা হয়। ঋণ নেওয়ার জন্য এনআইডি যাচাই-বাছাই শেষ হলে জাতীয় পরিচয়পত্রের সার্ভার থেকে সে সব তথ্য আবার নামিয়ে ফেলা হয়।
গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গত ১ মার্চ বিপ্লব আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। বিপ্লবের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার প্রথমে আল-আমিনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যে অন্যদের গ্রেফতার করে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, চক্রের সদস্যরা কোনো একটি ব্যাংকের শাখাকে টার্গেট করে সেখানে ঋণ নেওয়ার জন্য যায়। ফ্ল্যাটের বিপরীতে ঋণ নেওয়ার কথা বললে ব্যাংক কর্মকর্তারা সেই ফ্ল্যাট ভিজিট করতে চায়। তারা আগে থেকেই কোনো একটি ফ্ল্যাট বিক্রির সাইনবোর্ড ঠিক করে ব্যাংক কর্মকর্তাদের সেখানে নিয়ে যায়। পরবর্তী সময় প্রতারক দলের সদস্যরা সেই বিক্রেতার জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি নিয়ে আসে। সেই এনআইডির ছবি পরিবর্তন করে ভুয়া এনআইডি তৈরি করে ব্যাংকে জমা দেয়। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ সেই এনআইডি সার্ভারে যাচাই করে ঠিক দেখতে পেয়ে ঋণ অনুমোদন দেয়।
ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার হাফিজ আক্তার বলেন, গ্রেফতারকৃতরা এরই মধ্যে ১১টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে এভাবে প্রতারণা করে অর্থ আত্মসাত্ করেছে। আমরা এসব বিষয়ে তদন্ত করছি। এছাড়া ভুয়া এনআইডি তৈরির অসাধু কর্মচারীদের শনাক্ত করা হয়েছে, তাদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।