—কোথায় যাচ্ছ?
—মেলায়।
—যাবে আমার সাথে?
—আমি ঘাড় বাঁকিয়ে রাজি হলাম।
একটু এগোতেই দেখি কোমর পানির এক খাল। পূর্ণবয়স্কদের জন্য হয়তো হাঁটু পানি হবে। ডানে বাঁয়ে কোথাও কোনো সাঁকো নেই। এখন উপায়?
মেলায় যে যেতেই হবে। রঙিন চুড়ি, চশমা, মাটির পুতুল, হাঁড়ি, আম কাটার ছুরি, বাঁশি আরো কতকি হাতছানি দিয়ে ডাকছে আমায়!
আমাকে বলল, আমি পার করে দিই?
—কিভাবে?
—পাঁজাকোলা করে।
—কিছু না বলে চুপ করে রইলাম। নীরবতা সম্মতির লক্ষণ ভেবে পার করে দিলেন। এছাড়া যে আমার কোনো উপায় নেই!
আজ প্রায় পঁচিশ বছর পর শাহবাগ মোড়ে তাঁর সঙ্গে দেখা। রুগ্ণ, তেলহীন রুক্ষ চুল, বাম বগলে ক্র্যাচে ভর দিয়ে অনেক কষ্টে রিকশা থেকে নেমে দাঁড়ালেন। দেখে কষ্ট হলো। জিজ্ঞেস করলাম, কোথায় যাবেন?
চোখ ইশারায় বারডেম দেখিয়ে বললেন—ওপারে।
দেখলাম হাঁটতে বেশ কষ্ট হচ্ছে। তাই বললাম—আমি পার করে দিই?
হাসলেন শুধু।
পঁচিশ বছর আগের ওই দিনটি তাঁর মনে থাকার কথা নয়। কিন্তু আমার যে সেটা সদ্যকৈশোরে পা দেওয়া কিশোরীর প্রথম কোনো যুবকের স্পর্শ!