বদলগাছীতে মত্স্যজীবীদের মানবেতর জীবনযাপন!

বদলগাছী (নওগাঁ) সংবাদদাতা

নওগাঁর বদলগাছীতে জলাশয়ের অভাবে মানবেতর জীবনযাপন করছে উপজেলার ৬২২ জন মত্স্যজীবী।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জলাশয়ের অভাবে মত্স্য আহরণ বা শিকার করতে না পারায় মত্স্যজীবীরা তাদের পরিবারের প্রায় তিন হাজার সদস্য নিয়ে অতি কষ্টে জীবন যাপন করছে।

বদলগাছী সদর উপজেলার পাশ দিয়ে প্রবাহিত হওয়া ছোট যমুনা নদী এবং ৫২ একর আয়তনের নহেলা কাষ্টগাড়ী, পূর্ব বনগ্রাম, মামুদবিলা, মৌজা পাঁচঘরিয়া, বড় বিলাসহ খাল ডোবা রয়েছে। এছাড়াও উপজেলায় রয়েছে ৮০টি খাস পুকুর। প্রাকৃতিক কারণে ছোট যমুনা নদীটি ভরাট হওয়ায় খরা মৌসুমে এটি হয়ে পড়ে পানিশূন্য। বড় বিলা বাদে নহেলা কাষ্টগাড়ী, পূর্ব বনগ্রাম, মামুদ বিলা, মৌজা পাঁচঘরিয়া এই ৪টি বিল ভিটা শ্রেণি দেখায়ে শ্রেণি পরিবর্তন করে আশ্রয়ণ প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করে। অথচ আশ্রয়ণ প্রকল্পগুলোতে ৫০ ভাগ বসতি নেই। সড়কের দুইধারে নয়নজলিগুলো প্রভাবশালীদের দখলে।

উপজেলার জালালপুর পশ্চিম মধ্যপাড়া মত্স্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি এমরান এবং জালালপুর মত্স্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি আতাউর রহমান ও ভাতশাইল মত্স্যজীবী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. বেলাল হোসেন জানান, ৮০টি খাস পুকুর অমত্স্যজীবী সমিতির নামে এবং ক্ষেত্রবিশেষে প্রকৃত মত্স্যজীবী সমবায় সমিতিকে কিছু টাকা দিয়ে প্রভাবশালীরা ঐ সমিতিগুলোর নামে পুকুর লিজ নিয়ে ভোগ দখল করে। উপরোক্ত কারণে উপজেলায় জলাশয়ের অভাব সৃষ্টি হয়েছে।

এ ছাড়া সরকারি পুকুরগুলো প্রকৃত মত্স্যজীবীদের মূলধনের অভাবে পুকুর ডাকে তেমন অংশগ্রহণ করতে পারে না। ফলে মত্স্য আহরণ বা শিকার করতে না পারায় তারা তাদের পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

বদলগাছী উপজেলা মত্স্য অফিসে দায়িত্বপ্রাপ্ত মত্স্য কর্মকর্তা মো. মাহফুজুল হক বলেন, উপজেলায় বিভিন্ন কারণে জলাশয়ের অভাব সৃষ্টি হওয়ায় মত্স্য আহরণ করতে না পারায় জেলে বা মত্স্যজীবীরা কষ্টে রয়েছে।