সূর্য অস্ত যেতে বসেছে। তখনও লোকজন আসছেন বেহুলার বাড়িতে জীয়নকূপ দেখতে। তাড়াহুড়ো করে তারা কূপ দেখা শেষ করে চলে গেলেন বেহুলার খারী দেখতে। কথিত আছে, বেহুলার সোনার নৌকাটি ওই খারীতেই ডুবে যায়। বেহুলার খারীর মধ্যে মাটির নৌকার মতো দেখতে ওই স্থানটিতে কিছু সময় অবস্থান করে তারা বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন।
মঙ্গলবার বগুড়া জেলার সাজাহানপুর উপজেলার খরনা গ্রাম থেকে ও সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানার মাহমুদপুর গ্রাম থেকে ওই দর্শনার্থীরা এসেছিলেন বেহুলার জীয়নকূপ দেখতে।
খরনা গ্রামের মনিরুল ইসলাম, আশরাফুল ইসলাম, সম্পা খাতুন ও মাহমুদপুর গ্রামের ময়না খাতুন, জান্নাতী পারভীন, টিটু মিঞা বলেন, ঐতিহাসিক বেহুলা লখিন্দরের লোহার বাসরঘর তাদের আকৃষ্ট করে। কিন্তু বেহুলার জন্মস্থানের ইতিহাস সম্পর্কে তারা তেমন কিছুই জানেন না।
দেশের বেশিরভাগ মানুষের এখনো অজানা ষোড়শ শতাব্দীর প্রাচীন লোককাহিনীর বিশ্বনন্দিত সতী সাবিত্রী কিংবদন্তীর নায়িকা বেহুলা সুন্দরীর জন্মস্থান সিরাজগঞ্জ জেলার তাড়াশ উপজেলার বারুহাস ইউনিয়নের বিনসাড়া গ্রামে। বেহুলার পিতার নাম বাছোবানিয়া ওরফে সায় সওদাগর।
এ বাড়িতে এখনো বিদ্যমান জীয়নকূপ, বেহুলার খারী ও খারীর মধ্যে মাটির নৌকা আকৃতির একটি স্থান, বটবৃক্ষ আঙিনা, মহলসহ আরও কিছু স্মৃতিচিহ্ন।
স্থানীয় আব্দুল ওয়াহাব, আফজাল হোসেন ও ইউনুছ আলী বলেন, জঙ্গলের মধ্যে পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল বেহুলা বাড়ির জীয়নকূপটি। ওই সময় গরু-ছাগল কূপের মধ্যে পড়ে মরে থাকতো। কিন্তু সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান স.ম. আব্দুল জলিল বেহুলার কূপ সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের লক্ষে এক জনসভা করেন। প্রথমবার ১৯৮৭ সালে ও দ্বিতীয়বার ২০১৪ সালে সংস্কারের মাধ্যমে দর্শনীয় করে তোলা হয়। বেহুলা বাড়ির জীয়নকূপ সংস্কার ও বেহুলা বাড়ির আশেপাশে মাটি খননের সময় আচার্য্য রকমের পুতুল, কলস, জগ, ঘটি ও থালা-বাসন পাওয়া যায়।
স্থানীয়রা আরও জানান, কাছে ও দূর থেকে প্রতিদিনই মানুষজন বেহুলার জীয়নকূপ দেখতে আসেন। কিন্তু যথাযথ সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে হারিয়ে যেতে বসেছে তার পৈতৃক ভিটার স্মৃতিচিহ্ন।
সরেজমিনে দেখা যায়, সংস্কারের সময় কূপের মুখ লোহার গ্রিল দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কূপের ভেতরে চোখে পড়ে অল্প পানির সঙ্গে ময়লার স্তূপ। কূপ দেখতে ভেতরে যাওয়ার প্রবেশ দরজাটিও ভেঙে গেছে। সেটি পাশের একটি ঘরে ফেলে রাখা হয়েছে। শুধু তাই নয়, জীয়নকূপের আশপাশ আগাছায় ঢেকে গেছে। এসব কারণে ব্যাহত হচ্ছে সৌন্দর্য।
এদিকে জীয়নকূপের পাশে বেহুলার খারীর মধ্যে চোখে পড়ে মাটির নৌকা আকৃতির একটি স্থান। শুকনো খারীর চারদিকে ধানের আবাদ করা হয়েছে। কিন্তু দৃশ্যমান হয়ে রয়েছে মাটির নৌকার মতো দেখতে ওই স্থানটি।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেজবাউল করিম দৈনিক ইত্তেফাককে বলেন, আগামীতে এডিপির বরাদ্দ থেকে বেহুলার জীয়নকূপ সংস্কারসহ বেহুলার স্মৃতি বিজড়িত অন্যান্য কাজগুলো করা হবে।
ইত্তেফাক/ইউবি