বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার একটি ট্রলারের ইঞ্জিন রুমে রহস্যজনক বিস্ফোরণে লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার অগ্নিদগ্ধ হওয়া ১২ জেলের মধ্যে বুধবার (১০ মার্চ) বিকেল পর্যন্ত ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারা মারা যান।
মারা যাওয়া জেলেদের বাড়ি উপজেলার চরগাজী ও চররমিজ ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে। ওই ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অন্য ছয়জনের অবস্থাও আশঙ্কাজনক। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাদের শরীরের ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ পুড়ে গেছে।
২৮ ফেব্রুয়ারি ভোরে কক্সবাজারের অদূরে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার সময় এফবি ওশিন নামের ওই ট্রলারের ইঞ্জিন রুমে হঠাৎ করে বিকট শব্দে এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। মারা যাওয়া ছয় জেলে হলেন, উপজেলার চরগাজী ইউনিয়নের দক্ষিণ টুমচর গ্রামের নুরউদ্দিনের ছেলে বেলাল হোসেন (২৮), একই গ্রামের সিরাজুল হকের ছেলে মো. মেহেরাজ (২৬), চরলক্ষী গ্রামের আবদুজ্জাহেরের ছেলে মো. মিলন (৩০), একই গ্রামের দেলোয়ারের ছেলে মো. মিরাজ উদ্দিন(২৫), চররমিজ ইউনিয়নের চরগোসাই গ্রামের মন্তাজল হকের চেলে আবুল কাশেম মিস্ত্রী (৫৫) এবং একই গ্রামের আবু তাহেরের ছেলে মো. রিপন মাঝি (৩৮)। মো. মিরাজ উদ্দিন বুধবার বিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। চরলক্ষী গ্রামের মো. আলাউদ্দিন, মো. সাহাবউদ্দিন, আবু জাহেরসহ ৬ জন ওই ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন আছেন ।
জানা গেছে, কক্সবাজার এলাকার সোহেল কোম্পানির এফবি ওশিন নামের ট্রলারটি ২১ জন জেলে নিয়ে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি মাছ ধরার উদ্দেশ্যে বঙ্গোপসাগরে যায়। ২৮ ফেব্রুয়ারি সকালে ট্রলারের ইঞ্জিন রুমে হঠাৎ করে বিকট শব্দে একটি বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ট্রলারের ১২ জেলে অগ্নিদগ্ধ হলে মাছ ধরার অপর ট্রলারের জেলেদের সহযোগিতায় তাদেরকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে চিকিৎসকরা তাদেরকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের বার্ন ইউনিটে স্থানান্তর করেন। সেখানেও অবস্থার অবনতি ঘটলে তাদের মধ্যে ১১ জনকে ৪ মার্চ বৃহস্পতিবার ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। পরে সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারা মারা যান।
ট্রলারের মাঝি উপজেলার চরগাজী এলাকার মো. মনির হোসেন জানান, ঘটনার সময় তিনি ট্রলারের কেবিনের ওপরে ছিলেন। এ সময় ইঞ্জিন রুমে আকস্মিক বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ইঞ্জিন রুমে ও কেবিনের ভিতরে থাকা ১২ জেলে দগ্ধ হলে মাছধরার অপর একটি ট্রলারে করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে, ঠিক কী কারণে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না বলেও তিনি জানিয়েছেন।
এদিকে, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে দগ্ধ জেলেদের নিয়ে আসা হলে তাদের চিকিৎসায় এগিয়ে যায় রামগতির স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘স্বপ্ন নিয়ে’। রোগীদের সেবায় স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগের পাশাপাশি চিকিৎসা খরচের অর্থ সংগ্রহের জন্য কাজ করছে সংস্থাটি।
রামগতি উপজেলার চরগাজী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তাওহীদুল ইসলাম সুমন জানান, অগ্নিদগ্ধ বেশিরভাগ জেলের বাড়িই তার এলাকায়। আর্থিক সঙ্কটের কারণে ওইসব জেলেদের পরিবার চিকিৎসার খরচ চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন। এ অবস্থায় তাদের চিকিৎসায় যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা করার আহ্বানও জানান তিনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আব্দুল মোমিন বলেন, কি কারণে জেলেদের ট্রলারে বিস্ফোরণ হয়েছে তার খোঁজখবর নেবো। অন্যদিকে খবর পেয়ে আহত ও মারা যাওয়া জেলেদের তালিকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। দুই-এক দিনের মধ্যে তাদেরকে সহায়তা করা হবে।
ইত্তেফাক/এমএএম