রফিকুল ইসলাম রবি
গতকাল বেলা আড়াইটা। ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার সবকটি কার পার্কিং তখন গাড়িতে ঠাসা। বেলা বাড়ছে, বাড়ছে মানুষ। পাশাপাশি বাড়ছে ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা। গাড়ি সামাল দিতে দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশকে হিমশিম খেতে হয়েছে। পার্কিংয়ে জায়গা না পেয়ে রাস্তার দুই পাশেই গাড়ি পার্ক করেছেন মেলায় আগত দর্শনার্থীরা। এতে ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে অন্য দর্শনার্থীদের। পায়ে হেঁটে, গাদাগাদি করে মেলায় প্রবেশ এবং ঘোরাঘুরি করতে হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন থাকায় রাজধানীর বিভিন্ন জায়গা থেকে সকাল থেকেই মেলার মাঠে মানুষের ঢল নামে। যারা ভিড় পছন্দ করেন না তারা আগেভাগেই বাণিজ্য মেলার দিকে বেরিয়ে পড়েন। ফলে দুপুরের মধ্যে লোক সমাগমে ভরে ওঠে মেলার মাঠ। বিকাল নামতেই জনসমুদ্রে রূপ নেয় মেলা প্রাঙ্গণ এবং এর আশপাশের এলাকা। সন্ধ্যার পর তিল ফেলার জায়গা ছিল না মেলা প্রাঙ্গণে। এ দিকে গতকাল শেরেবাংলা নগরের আশপাশে রাস্তায় সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজট। রোকেয়া সরণির একদিকে খামারবাড়ি মোড় থেকে এবং অন্যদিকে শেওড়াপাড়া, তালতলা থেকে পায়ে হেঁটে মেলার মাঠে পৌঁছতে হচ্ছে দর্শনার্থীদের। ছেলে-বুড়ো থেকে শুরু করে সব বয়সী নারী-পুরুষের আড্ডায় মেলা প্রাঙ্গণ যেন মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়। গতকাল মেলার মাঠে প্রায় আড়াই লাখ লোকের সমাগম হয়েছে বলে মনে করছেন কর্তৃপক্ষ। বাড়তি লোকের কথা মাথায় রেখে মেলায় নিরাপত্তাও বাড়ানো হয়। মেলা চত্বরে পুলিশ, র্যাব ও ডিবিসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ছিল সতর্ক অবস্থান। বাড়ানো হয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংখ্যাও।
এ দিকে মেলার প্রবেশপথে টিকিট কাউন্টারে দেখা গেছে দীর্ঘ লাইন। দীর্ঘ সময় ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে দর্শনার্থী ও ক্রেতাদের টিকিট সংগ্রহ করতে হয়েছে। বনানী থেকে সপরিবারে মেলায় এসেছিলেন তাবাচ্ছুম জান্নাত। মেলায় প্রবেশ পথে কথা হয় তার সাথে। জানালেন, দুপুরের পর পরই বাণিজ্য মেলায় রওনা দেই। এখন বিকাল ৪টা বেজে গেলেও মেলায় প্রবেশ করতে পারিনি। এক কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে এসেছি। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের পূর্বপাশ থেকে মেলার প্রবেশদ্বার পর্যন্ত পৌঁছতে লেগেছে আধাঘন্টা। এরপর আধাঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট সংগ্রহ করতে হয়েছে।
সব স্টল ও প্যাভিলিয়নে ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের ভিড় জমাতে দেখা গেছে। সাধ ও সাধ্যের মধ্যে সামঞ্জস্য রেখে প্রয়োজন অনুযায়ী পণ্য কিনছেন ক্রেতারা। খাবার, গৃহস্থালীর পণ্য, ইলেকট্রনিক্স, আসবাবপত্র, শীতের পোশাক, প্রসাধনীর পণ্যের স্টল ও প্যাভিলিয়নে লোকজনের ভিড় বেশি ছিল। বেচাকেনাও হয়েছে ভালো। স্টল সামলাতে হিমশিম খেতে হয়েছে বিক্রেতাদের। প্রচার মাইকে পণ্যের ‘অফার’ শুনে ওইসব প্যাভিলিয়নে পৌঁছতে বেগ পেতে হয়েছে ক্রেতা-দর্শনার্থীদের। বিক্রেতারা বলেন, ছুটির দিনে সকাল থেকেই ভিড় থাকে, বিক্রিও হয় ভালো। আর এ জন্য থাকে আলাদা প্রস্তুতি। ছুটির দিনে দম ফেলার সময় থাকে না। মেলা শুরুর পর গতকাল সবচেয়ে বেশি বিক্রি করেছেন বিক্রেতারা।