এক হাজার একর জমি চায় বিপিসি

নতুন তেল পরিশোধনাগার এবং তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) প্ল্যান্ট স্থাপনে জমি খুঁজছে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। এ জন্য কক্সবাজারের মহেশখালীতে এক হাজার একর অখণ্ড জমি চায় সংস্থাটি। সম্প্রতি বিপিসি এ সংক্রান্ত একটি চিঠি জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগে পাঠিয়েছে। এ ধারাবাহিকতায় নির্দেশনা ও অনুমোদন চেয়ে মন্ত্রণালয় থেকে একটি পত্র প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দেওয়া হয়েছে।

বিপিসি সূত্র জানায়, বর্তমানে মহেশখালী ও মাতারবাড়ি অঞ্চলে সমন্বিত উন্নয়ন কার্যক্রমের জন্য সমীক্ষা পরিচালনা করা হচ্ছে। জাপানি উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা জাইকার সহযোগিতা এটি পরিচালনা করছে কক্সবাজার ডিসি অফিস। ওই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে জেলার মহেশখালী ও মাতারবাড়িতে দুইটি পৃথক জ্বালানি অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করা হবে।

সরকার ইতোমধ্যে ১০টি বিদ্যুেকন্দ্র নির্মাণে বিভিন্ন কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি সই করেছে। চুক্তি হওয়া কেন্দ্রগুলো ২০২৫ থেকে ২০৩৮ সালের মধ্যে বাস্তবায়িত হওয়ার কথা রয়েছে। এগুলো থেকে উত্পাদিত হবে প্রায় ১২ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত্।

দেশে বর্তমানে একমাত্র তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি। এতে প্রতি বছর ১৪ লাখ মেট্রিক ক্রুড তেল পরিশোধন করা যায়। অথচ দেশে বার্ষিক ক্রুড তেলের চাহিদা অন্তত ৫৬ লাখ মেট্রিক টন। এই পরিপ্রেক্ষিতে ৩০ লাখ টন ক্ষমতার ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিট নির্মাণে ফ্রান্সের একটি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে সরকার। এর বাইরে আরো একটি রিফাইনারি কক্সবাজারের মহেশখালীতে নির্মাণ করতে চায় বিপিসি। বিপিসির প্রস্তাবনা অনুযায়ী, নতুন তেল পরিশোধনাগারটির অবস্থান হবে সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) প্রকল্পের কাছাকাছি। বর্তমানে জাহাজ থেকে তেল খালাসে ১০ দিন সময় লাগে। এসপিএম বাস্তবায়িত হলে এতে সময় লাগবে দুই দিন। এর ফলে বিদেশ থেকে আমদানিকৃত তেল দ্রুততর সময়ের মধ্যে পরিশোধনাগারে আনা যাবে। এটি অপেক্ষাকৃত সময় ও ব্যয় সাশ্রয়ী।

এদিকে দেশে এলপিজির চাহিদা ক্রমশ বাড়ছে। চাহিদার ২০ শতাংশের মতো জোগান দেওয়া হচ্ছে। এ অবস্থায় বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সরকারি বিনিয়োগের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমানে বিপিসির আওতাধীন এলপিজি কোম্পানি স্বল্প পরিসরে পেট্রোলিয়াম গ্যাস বোতলজাত করছে। ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে এলপিজি বটলিং প্ল্যান্ট নির্মাণেরও পরিকল্পনা করেছে বিপিসি।

এ প্রসঙ্গে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, দেশে পেট্রোলিয়াম পণ্য উত্পাদনের বিপুল চাহিদা রয়েছে। এই চাহিদা মেটাতে বিপিসির বড় বিনিয়োগেরও সুযোগ আছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে তেল পরিশোধনাগার ও এলপিজি প্ল্যান্ট নির্মাণে এক হাজার একর জমি দরকার। এখন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।