কামারখন্দে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষক-কর্মচারী ও ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক মঞ্জুরি হিসেবে বরাদ্দকৃত অর্থ প্রাপ্তির বিষয়ে অনেকটা না জেনেই বিভিন্ন কম্পিউটারের দোকানে ভিড় করছেন ছাত্রছাত্রী ও তাদের অভিভাবকরা। তাছাড়া, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানরা ছাত্রছাত্রীদের বিষয়টি সম্পূর্ণ অবগত না করে যত্রতত্র প্রত্যয়ন দিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের ২০২০-২০২১ অর্থবছরে পরিচালন বাজেটে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষক কর্মচারী ও ছাত্রছাত্রীদের জন্য বিশেষ মঞ্জুরি হিসেবে বরাদ্দকৃত অর্থ বিতরণের বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি বিজ্ঞপ্তি উপজেলার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রেরণ করা হয়। সরকারি বা বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীবৃন্দ দুরারোগ্য ব্যাধি, দৈব দুর্ঘটনা এবং শিক্ষা গ্রহণ কাজে ব্যয়ের জন্য প্রতিষ্ঠানের প্রধানের প্রত্যয়ন নিয়ে ছাত্রছাত্রীরা ১ ফেব্রুয়ারি ২০২১ হতে ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১ তারিখের মধ্যে আবেদন করতে পারবেন। তবে আবেদনের তারিখ ১৫ মার্চ ২০২১ পর্যন্ত বর্ধিত করে মন্ত্রণালয়। ছাত্রছাত্রীরা মনে করছেন করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে শিক্ষা মন্ত্রণালয় অর্থ দিবে যার জন্য করতে হচ্ছে এ আবেদন।
কোনাবাড়ী ইসাহাক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুস সবুর জানান, ছাত্রছাত্রীরা কী কারণে প্রত্যয়ন নিচ্ছে এ ব্যাপারে আমার জানা নেই। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ছাকমান আলী জানান, প্রতিষ্ঠানে গিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মঞ্জুরি হিসেবে বরাদ্দকৃত অর্থ প্রাপ্তির বিষয়ে না জেনেই করোনায় ক্ষতির কারণে সরকারি অনুদানের গুজব ছড়াচ্ছে অনেকে।
এদিকে সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা জানান, অনুদান পাওয়ার আশায় নিবন্ধন করার জন্য সৈয়দপুর প্লাজায় বিভিন্ন কম্পিউটারের দোকানে কাগজভর্তি ফাইল নিয়ে অপেক্ষায় বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী। গত ৭ মার্চ সকাল থেকে শহরে এমন চিত্র দেখা যাচ্ছে। অভিভাবক হাবিজার রহমান অনুদানের কথা শুনে এসেছেন মেয়ের জন্য নিবন্ধন করতে। তিনিও বলতে পারলেন না কে অনুদান দেবে, কেন দেবে! শিক্ষার্থী সুমন সরকার ও পাপুল ইসলাম বলেন, ফেসবুকে বন্ধুদের কাছে শুনেছি ১০ হাজার টাকা অনুদানের কথা। প্রতিষ্ঠানের প্রত্যয়নসহ বিভিন্ন কাগজপত্র নিয়ে নিবন্ধনের জন্য বন্ধুরা মিলে কম্পিউটারের দোকানে এসেছি।
ইত্তেফাক/এমআর