হুমায়ূন রশিদ চৌধূরী, সিলেট অফিস
জাতীয় নির্বাচনের পর সিলেট বিএনপির নেতা কর্মীদের অনেকেই আবার ঘুরে দাড়ানোর চিন্তা করছেন। তারা চেয়ে আছেন কেন্দে র নির্দেশনায়। কিন্তু অনেকেই আবার হতাশ। বড় বড় নেতাদের দলছুট কর্মকান্ড ও নিজ দলে অবমূল্যায়নের কথা তাদেরকে বেশ ভাবিয়ে তুলেছে। অনেকে আবার অবসরের কথাও ভাবছেন।
আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে অংশগ্রহণে বিএনপির অনেকের আগ্রহ রয়েছে। কিন্তু বিএনপি নেতারা সন্দেহ আর অবিশ্বাসে ভুগছেন। সিলেটের বড় বড় বিএনপি নেতারা কে কখন দলত্যাগ করেন-এটাই বড় চিন্তার ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাঝে। বিষয়টি নিয়ে তৃণমূলে উদ্বেগ-উত্কণ্ঠার শেষ নেই। এসব ঘটনায় ত্যাগী নেতাকর্মীরা অনেটা বিভ্রান্ত।
জানা গেছে, সিলেটের সাধারণ মানুষের মধ্যে বেশ আলোচনা হচ্ছে কয়েকটি ঘটনা নিয়ে। তাদের অনেকেরই প্রশ্ন, বড় নেতারা কি বিএনপি ছেড়ে আওয়ামী লীগে যোগ দিচ্ছেন? যদিও সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ বিষয়টি অস্বীকার করে বলেছেন, বিভ্রান্তি বা সন্দেহের অবকাশ নেই। একটি মহল বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। সত্যিকার বিএনপি নেতারা দল ছেড়ে যাবেন না।
গত জাতীয় নির্বাচনের আগে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপেদেষ্টা সাবেক সচিব ইনাম চৌধূরীর দল ত্যাগের বিষয়টি ছিল-সিলেটে তথা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ আলোচিত ঘটনা। জাতীয় নির্বাচনের পর সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেনকে বিএনপি নেতা সাবেক এমপি শফি আহমদ চৌধূরী, সিলেটের মেয়র আরিফুল হক চৌধূরীর ফুলেল শুভেচ্ছা, গোয়াইনঘাট উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির ভাইস প্রেসিডেন্ট আবদুল হাকিম চৌধূরীর পক্ষ থেকে প্রতিমন্ত্রী ইমরান আহমদকে ফুলেল শুভেচ্ছা প্রদানের ঘটনা ও সিলেট জেলা বিএনপির উপদেষ্টা ও দক্ষিণ সুরমা উপজেলার বরইকান্দি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাবিব হোসেনের ঢাক-ঢোল পিটিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্যের হাতে ফুল দিয়ে আওয়ামী লীগে যোগদানের ঘটনা-বিএনপি নেতা কর্মীদের অবাক করেছে। তারা বলছেন, যেখানে বিএনপি গত নির্বাচনকে প্রত্যাখান করেছে সেখানে আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদেরকে বিএনপির ফুলেল শুভেচ্ছা জানানোর ঘটনা বৈপরীত্য কিনা-এই প্রশ্ন অনেক নেতা কর্মীর।
জেলা পর্যায়ের এক নেতা বলেন, মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর বিষয়টি না হয় ভিন্ন। যেহেতু মেয়রের পদে আছেন। কিন্তু অন্যান্য বিএনপি নেতাদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানোর বিষয়টি অনেকেই মেনে নিতে পারছেন না। বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনেও বেশ আলোচিত ব্যাপারে পারিণত হয়েছে।
মেয়র আরিফ সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৮৩তম জন্মদিন উপলক্ষে জেলা বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় জোরালো কণ্ঠে বলেন, আমি বিএনপিরই সৃষ্টি। আর সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শই আমার রাজনীতির আদর্শ। মৃত্যুর পুর্ব পর্যন্ত বিএনপিই আমার একমাত্র ঠিকানা।
প্রায় একই ধরণের কথা বলেছেন গোয়াইনঘাট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সিলেট জেলা বিএনপির ভাইস প্রেসিডেন্ট আব্দুল হাকিম চৌধুরী। তিনি বলেছেন, যতদিন বেঁচে থাকবো বিএনপির রাজনীতির সাথেই থাকবো। দলবদলের প্রশ্নই আসেনা। উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হিসাবে তিনি এলাকার সংসদ সদস্য প্রতিমন্ত্রী ইমরান আহমদকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বলে মন্তব্য করেন। সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ গতকাল ইত্তেফাককে বলেন ‘সন্দেহের আগুন’ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা ছড়াচ্ছে। এর কোন প্রভাব দলীয় নেতাকর্মীদের উপর পড়ার কোন সম্ভাবনাও নেই।