নারীর মাধ্যমে এক ব্যাংক কর্মকর্তাকে ফাঁসিয়ে তার কাছ থেকে ২ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে চট্টগ্রামে একটি প্রতারক চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন জানান, নগরীর বাকলিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় গত বৃহস্পতিবার অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলো—মো. শহীদ আলম ওরফে লেদু, জাহাঙ্গীর আলম, গিয়াস উদ্দিন ও মো. রায়হান।
বাকলিয়া থানার পুলিশ সূত্র গতকাল শুক্রবার জানায়, চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি ব্যাংকের ঐ কর্মকর্তা তার পরিচিত ব্যক্তির কাছ থেকে পাওয়া মোবাইল নম্বরের মাধ্যমে এক তরুণীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কয়েক দিন কথা বলার এক পর্যায়ে গত ৫ মার্চ বিকালে ঐ তরুণী ব্যাংক কর্মকর্তাকে তার বাসায় যাওয়ার আমন্ত্রণ জানায়। সেদিন ব্যাংক কর্মকর্তা বাকলিয়া থানার রাহাত্তারপুল এলাকায় গিয়ে মেয়েটিকে ফোন করেন। এ সময় ঐ তরুণী তাকে বাসায় নেওয়ার জন্য রায়হান নামে এক ব্যক্তিকে পাঠাচ্ছে বলে জানায়। পরে রায়হান নামে এক ব্যক্তি এসে ব্যাংক কর্মকর্তাকে নিয়ে চান্দাপুকুর এলাকার বিসমিল্লাহ টাওয়ার নামক ভবনের পেছনে খালি জায়গায় যায়। সেখানে আগে থেকেই লেদু, গিয়াস, জাহাঙ্গীরসহ আরো কয়েক জন উপস্থিত ছিল। এ সময় তারা ‘তরুণীর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক করতে ঐ ব্যাংক কর্মকর্তা সেখানে গেছেন’—এ কথা বলে লোকজন জড়ো করার হুমকি দেয়। পাশাপাশি তারা ঐ কর্মকর্তাকে ছুরিকাঘাতের ভয় দেখায় এবং পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ২ লাখ টাকা দাবি করে। পরে ঐ কর্মকর্তা তার ছোট ভাইয়ের মাধ্যমে কয়েকটি বিকাশ নম্বর থেকে প্রতারকদের ২ লাখ টাকা দিয়ে সেখান থেকে বেরিয়ে আসেন।
ঐ ব্যাংক কর্মকর্তা ঘটনাটি গত বৃহস্পতিবার বাকলিয়া থানায় জানালে পুলিশ ঐ এলাকায় গিয়ে আশপাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে ঘটনার সত্যতা পায় এবং চিহ্নিত চার জনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
লেদুসহ কয়েক জনের বিরুদ্ধে নগরীর বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। পুলিশ জানায়, ঐ প্রতারক চক্রের সদস্য নারীসহ অন্তত ১০ জনের নাম পাওয়া গেছে। নারীদের দিয়ে বিত্তবান লোকজনকে জিম্মি করে টাকা আদায়ের পাশাপাশি চুরি ছিনতাইয়ের সঙ্গেও তারা জড়িত। এ ঘটনায় ঐ ব্যাংক কর্মকর্তার করা মামলায় গ্রেফতারকৃত চার জনকে আদালতে পাঠিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হবে বলেও পুলিশ জানায়।
ইত্তেফাক/জেডএইচডি